চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে পাকিস্তানের খাদ্য আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫.৫০২ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঊর্ধ্বগতি প্রধানত চিনি ও খাদক তেলের বেশি আমদানির কারণে ঘটেছে।
অন্যদিকে, কাঁচা খাদ্যপণ্যের রপ্তানি ৩৫.২১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২.৯৮৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ের রপ্তানি ছিল ৪.৬১৩ বিলিয়ন ডলার। মাংস ব্যতীত প্রায় সব প্রধান খাদ্যপণ্যের রপ্তানি পরিমাণ কমেছে। সবচেয়ে বড় হ্রাস দেখা গেছে চালের রপ্তানিতে, যা বাসমতি এবং নন-বাসমতি উভয় ধরনের জন্য প্রযোজ্য।

খাদ্য আমদানির এই বৃদ্ধি দেশের বাড়তে থাকা বিদেশি নির্ভরতার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতা স্থায়ী রয়েছে। বিশেষ করে চিনি, খাদক তেল এবং চায়ের বেশি আমদানিই স্থানীয় চাহিদা পূরণের জন্য আমদানির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছে।
পাকিস্তান স্ট্যাটিস্টিকস ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আমদানি করা খাদ্যপণ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ অংশে রয়েছে পাম তেল, এরপর রয়েছে ডাল, চা, সয়াবিন তেল এবং চিনি।
চলতি বছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে পাকিস্তান ৩০৮,৭৪১ টন চিনি আমদানি করেছে, যা গত বছরের ২,২৭১ টনের তুলনায় এক অভূতপূর্ব বৃদ্ধি ১৩,৪৯৪.৯৩ শতাংশ। মূল্য হিসাবে চিনি আমদানি বেড়ে ২.১৮১ মিলিয়ন ডলার থেকে ১৭৪.৬১৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ৭,৯০৬.১৫ শতাংশ বৃদ্ধিকে নির্দেশ করছে।
এই নাটকীয় বৃদ্ধি সরকার কর্তৃক চিনি আমদানির অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটেছে, যাতে দেশীয় চাহিদা পূরণ ও বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা যায়। বিভিন্ন শহরে খুচরা চিনি দাম কেজি প্রতি ১৬০ থেকে ১৯০ রুপির মধ্যে ওঠানামা করায়, কর্তৃপক্ষ সরবরাহ সংকট হ্রাস করতে আমদানির মাধ্যমে পদক্ষেপ নিয়েছে।

পাম তেলের আমদানি মূল্য ২৪.৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৩৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছর তা ছিল ১.৮৮৫ বিলিয়ন ডলার। পরিমাণ অনুযায়ী, পাম তেলের আমদানি ১৫.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.১৮২ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যা দেশের খাদ্য তেল ও ঘি ব্যবহারের বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
অন্যদিকে, ডাল আমদানি ২১.৮৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪৯২.০৯৫ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যেখানে গত বছর তা ছিল ৬৩০.০১৯ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে, সয়াবিন তেলের আমদানি ৪২.২৭ শতাংশ কমে ৯৪.৯৯১ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
বাকি অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানি ব্যয় ৩৪.৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৬৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এই তথ্য পাকিস্তানের খাদ্য বাজারে আমদানির বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানির হ্রাসের প্রভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















