ভারতের অবশিষ্ট ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম আগামী এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুতি শেষ করতে নির্দেশ
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম শুরুর আগে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান ভোটারদের তথ্য ২০০২-০৪ সালের নির্বাচনী তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং বুথস্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, সব কাজ শেষ হলেই এপ্রিল ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যেসব রাজ্য ও অঞ্চলে শুরু হবে
যেসব এলাকায় এখনো এই প্রক্রিয়া হয়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্ধ্র প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, লাদাখ, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, দিল্লি, ওডিশা, পাঞ্জাব, সিকিম, ত্রিপুরা, তেলেঙ্গানা ও উত্তরাখণ্ড।
জনগণনা ও সংশোধন একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ
এপ্রিল থেকেই দেশের জনগণনা কার্যক্রমও শুরু হওয়ার কথা। প্রথম ধাপে প্রায় ৩০ লাখ গণনাকারী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সরকারি স্কুলের শিক্ষক। অন্যদিকে ভোটার তালিকার সংশোধনেও বুথস্তরের অনেক কর্মকর্তা একই পেশার হওয়ায় জনবল ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক সম্পদ ধাপে ধাপে ব্যবহারের বিষয়ে জনগণনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে নির্বাচন কমিশন।
আগের ধাপের অগ্রগতি
গত বছর বিহারে প্রথমবারের মতো এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম চালু হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় ধাপে আরও ১২টি রাজ্য ও অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা এখনো চলমান। ওই তালিকায় কেরালা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, উত্তর প্রদেশসহ কয়েকটি অঞ্চল রয়েছে। সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে বেশি সময় বাড়ানো হয়।
অন্যদিকে অসমে আইনি জটিলতার কারণে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বদলে সাধারণ সংশোধন কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















