আসামে নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিল কংগ্রেস। দলটির সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা বৃহস্পতিবার গুয়াহাটিতে “জনতার চার্জশিট” প্রকাশ করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং আদিবাসী ভূমি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
২০ দফা অভিযোগে সরব কংগ্রেস
কংগ্রেসের প্রকাশিত ২০ দফার নথিতে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অভিযোগের ভিত্তিতেই এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। গুয়াহাটির একটি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ।
নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি সরকার অবৈধ কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিয়ে সমান্তরাল অর্থনীতি গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে অবৈধ কয়লা খনন, সীমান্তপথে মাদক ও অবৈধ সুপারি পাচারকে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চার্জশিটে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, তাঁর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যরা সংগঠিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থ রিয়েল এস্টেট, শেল কোম্পানি ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।
ঋণ বেড়ে দুই লাখ কোটি টাকার বেশি
নথিতে আসামের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যের মোট ঋণ দুই লাখ কোটি টাকার বেশি হয়ে গেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বড় বোঝা চাপাবে।
কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, সরকার সংস্কার বা উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের জন্য নয়, বরং নির্বাচনী সুবিধা পেতে বিভিন্ন ভর্তুকি কর্মসূচি চালাতে ঋণ নিচ্ছে। ফলে অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি, সড়ক ও মৌলিক সেবায় জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে না।
অসম চুক্তি ও নাগরিক ইস্যুতে প্রশ্ন
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, বহুল স্বীকৃত ১৯৮৫ সালের অসম চুক্তির মূল সুরক্ষা ধারা বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও নতুন অভিবাসন সংক্রান্ত আদেশের মাধ্যমে ওই চুক্তির গুরুত্ব ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলে কংগ্রেস।
একই সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি হালনাগাদ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা এবং সরকারি মাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ তৈরির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্যা, ভাঙন ও কর্মসংস্থানে ব্যর্থতার অভিযোগ
নথিতে বলা হয়েছে, আসামের দীর্ঘদিনের বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করতে সরকার উদ্যোগ নেয়নি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ছয়টি সম্প্রদায়কে তফসিলি জনজাতি মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















