ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি surged এবং রপ্তানি কিছুটা কমে যাওয়ায় পুরো ২০২৫ সালে পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, যেখানে আমদানি বৃদ্ধি মূলত পুঁজির সরঞ্জাম এবং শিল্প সামগ্রীর ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
ঘাটতির পরিসংখ্যান ও অর্থনীতির প্রভাব
ডিসেম্বর মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৩২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি একটি পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ ঘাটতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ছিল যে ঘাটতি ৫৫.৫ বিলিয়ন ডলারে সীমিত থাকবে, তবে বাস্তব পরিসংখ্যান তা ছাড়িয়ে গেছে। পুরো ২০২৫ সালের পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি ১.২৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘাটতি বিশেষ করে মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, আয়ারল্যান্ড, থাইল্যান্ড এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রেকর্ড হয়েছে, তবে চীনের সঙ্গে পণ্য ঘাটতি কমেছে।
শুল্কনীতি ও আমদানি‑রপ্তানিতে পরিবর্তন
২০২৫ সালে আমদানি ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৪৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শিল্প সরঞ্জাম, কম্পিউটার এবং টেলিকমিউনিকেশন যন্ত্রাংশের আমদানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই পণ্যগুলো মূলত ব্যবসায়িক বিনিয়োগকে শক্তিশালী করছে এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রত্যাশাকে সমর্থন করছে। তেলের দাম, সোনা এবং তামার মতো শিল্প সামগ্রীর আমদানিও ঘাটতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ভোক্তা পণ্যের মধ্যে ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রীর আমদানি কমেছে।
রপ্তানি পরিস্থিতি
ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি ১.৭ শতাংশ কমে ২৮৭.৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিশেষ করে শিল্প সরঞ্জাম ও অ-আর্থিক সোনার রপ্তানি কমে গেছে। তবে ক্যাপিটাল গুডস রপ্তানি বাড়ার পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর এবং কিছু ভোক্তা পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের মোট পণ্য রপ্তানি ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.২০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা সর্বকালের উচ্চতম রেকর্ড।
লেবার মার্কেট ও চাকরির পরিস্থিতি
যদিও বাণিজ্য ঘাটতি বড় আকারে বেড়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থেকে গেছে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন বেকারত্বের জন্য করা আবেদন সংখ্যা কমে ২০৬,০০০ হয়েছে, যা জানুয়ারির শেষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। চলমান বেকারত্বের জন্য আবেদন সংখ্যা ১.৮৬৯ মিলিয়ন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি এখনও সীমিত এবং বাজারে অনিশ্চয়তা আছে। স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে কর্মসংস্থান কিছুটা বাড়লেও বাকি খাতে সীমিত। অভিবাসন নীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত অস্থিরতা চাকরির বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে।
বাণিজ্য ঘাটতি ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, আমদানির এই উচ্চমাত্রার বৃদ্ধিই ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্যের আমদানি আগামীদিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে সহায়ক হবে। তবে এই পরিস্থিতি একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ও আর্থিক চাপও বাড়াচ্ছে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















