পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন করে আইনি বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তরে চলমান অভিযানে ‘অবৈধভাবে ঢুকে পড়া’কে ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার বলে অভিযোগ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সংস্থাটি এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে কড়া অবস্থান নিয়েছে।
অভিযানে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
ইডির দাবি, গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক কার্যালয়ে তল্লাশি চলাকালে মুখ্যমন্ত্রী সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ আইনসম্মত তল্লাশির প্রতি ‘পূর্ণ অবজ্ঞা’ প্রদর্শন করেছে।
ইডি আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ₹২,৭৪২ কোটি টাকার কয়লা পাচার ও অর্থপাচার মামলার সঙ্গে যুক্ত। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের পাল্টা দাবি
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্য পুলিশের অনুমতি ছাড়া অভিযান চালানো হয়েছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন তথ্য জব্দ করা। আইপ্যাক ও এর প্রতিষ্ঠাতা প্রতিক জৈন তৃণমূলকে পরামর্শ দিয়ে থাকে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থার পরিচয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা অননুমোদিত তল্লাশি চালাচ্ছিল—এমন সন্দেহ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন।
ইডির পাল্টা জবাব
ইডি সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, তাদের কর্মকর্তারা যথাযথ পরিচয়পত্র ও তল্লাশি পরোয়ানা দেখিয়েছিলেন। বরং পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীকে সক্রিয় তল্লাশির মধ্যেই ভেতরে নিয়ে যায় এবং জব্দ করা নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়।
সংস্থার অভিযোগ, কম্পিউটার ও ইমেইলের ব্যাকআপ প্রক্রিয়া মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়। আইপ্যাক কার্যালয়ের কম্পিউটার, কর্মীদের মোবাইল ফোন এমনকি ইডি কর্মকর্তার ল্যাপটপ ও ফোনও সাময়িকভাবে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তারা ‘চুরির শামিল’ বলে উল্লেখ করেছে।
গোপন তথ্যের দাবি খারিজ
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, জব্দ করা সামগ্রীতে কেবল তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন তথ্য ছিল। তবে ইডি এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে বলেছে, তদন্ত-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণই সেখানে ছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















