যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত শুক্রবার এক ঐতিহাসিক রায় দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে আরোপ করা শুল্ক বা ট্যারিফগুলো অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালত বলেছে জরুরি ক্ষমতার আওতায় ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন তা আইনভঙ্গ এবং কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোনও রাষ্ট্রপতির নেই। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এই শুল্ক ব্যবস্থা চালু হয় যার ফলে আমেরিকা মোট প্রায় শতাধিক দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শুল্ক সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে যে ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনে (আইইইপিএ) এমন সর্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই এবং শুধুমাত্র কংগ্রেসই এই ধরনের কর আরোপের ক্ষমতা রাখে। এই রায়ে আদালতের ছয়টি সদস্য আইনটি বাতিল করে দেন এবং তিনজন সদস্য বিরোধী মতামত ব্যাক্ত করেন। ট্রাম্প রায়কে ক্ষতিসাধক বলে অভিহিত করেছেন এবং অন্য আইনি পথে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিলিয়ন ডলারের শুল্ক সংগ্রহের ভবিষ্যত, ফেরত দেওয়া এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব নিয়ে মতামত বিভিন্ন দলে বিভক্ত। আদালতের এই রায় মার্কিন সংবিধানের সীমাবদ্ধতা পুনরায় প্রমাণ করেছে এবং কংগ্রেসের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।

আইনি সীমাবদ্ধতা ও কংগ্রেসের ভূমিকা
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী শুধু কংগ্রেসের কাছে শুল্কের মতো কর আরোপের ক্ষমতা প্রকৃতভাবে আছে এবং প্রেসিডেন্ট তা একচেটিয়াভাবে করতে পারেন না। আদালত প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের লেখা মতামতে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা পিতারা কর আরোপের ক্ষমতাকে এককভাবে নির্বাহী শাখায় দিতে চাননি। আইইইপিএ আইনে জরুরি পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকলেও তা দিয়ে সর্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করার স্পষ্ট অনুমোদন নেই বলে রায় জানানো হয়। এর ফলে আমেরিকার শুল্ক নীতির ভবিষ্যত, ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং রায়কে দেশব্যাপী ক্ষতিসাধক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই নতুন করে শুল্ক আরোপের জন্য বিকল্প আইনি পথ খুঁজে বের করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বিশেষ আইনের আওতায় ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের কথাও জানিয়েছেন যা সীমিত সময়ের জন্য প্রযোজ্য হবে। সমালোচকরা বলছেন এই রায় প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক আরোপের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং কংগ্রেসের ভূমিকার গুরুত্ব আরও বেশি করে তুলে দিয়েছে। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ব্যবসার ভবিষ্যত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর বিরূপ বা সাংঘর্ষিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত ব্যক্ত করছেন বিশ্লেষকরা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















