চীনের স্টক বাজারে নতুন প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা রকেট শেয়ার কিনে মহাকাশ শিল্পে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোকাবেলার আশায় ঝুঁকছে। এই শেয়ারগুলোকে তারা নতুন ‘প্রযুক্তি যুদ্ধের’ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে, যেখানে বাণিজ্যিক মহাকাশ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধান ভূমিকা রাখবে।

শাংহাই এবং শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জে বাণিজ্যিক মহাকাশ কোম্পানিগুলোর সূচক এ বছর প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৫ সালে ৭৬ শতাংশের বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। শাংহাই ডি.জেড.এইচ-এর (Shanghai DZH) তথ্য অনুযায়ী, এই সূচকের বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রিটার্ন CSI 300 সূচকের ২ শতাংশের বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। বড় লাভদাতা কোম্পানির মধ্যে চায়না স্পেস্যাট (China Spacesat) এবং হুনান অ্যারোস্পেস হুয়ানিউ কমিউনিকেশন টেকনোলজি উল্লেখযোগ্য।
গ্রেট ওয়াল সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক হৌ বিন বলেছেন, “নীতিগত সমর্থনের কারণে চীনে রকেট উৎক্ষেপণের খরচ কমবে এবং এমনকি স্পেসএক্সের সঙ্গে সমান হতে পারে। আমরা বাণিজ্যিক মহাকাশে দেশীয় বিকল্পের দ্রুত প্রসারে ইতিবাচক। এটি downstream শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে।”

ফেব্রুয়ারী ১১ তারিখে দক্ষিণ চীনের হাইনান প্রদেশের ওয়েনচাং স্পেসক্রাফট লঞ্চ সাইটে লং মার্চ-১০ ক্যারিয়ার রকেটের নিম্ন-উচ্চতার প্রদর্শনী ও যাচাই ফ্লাইট পরীক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের ক্রুড স্পেসশিপ সিস্টেম মেংঝোউ-এর ফ্লাইট পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষা চীনের মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও তীব্র করেছে।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেছনে থাকবে না। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি এবং চন্দ্র অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীন তার সাম্প্রতিক পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় মহাকাশকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে স্থির করেছে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের ধারাবাহিক পরীক্ষা চালাচ্ছে। এটি দেশটির সংকল্প দেখায় যে তারা আধুনিক প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে থাকবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















