মিয়ামির মিডটাউনে অবস্থিত একটি অলাভজনক ক্লিনিক বাইরে থেকে ঝলমলে মনে হলেও ভেতরে চলছে টিকে থাকার লড়াই। অনুদান, বীমা ও ওষুধ বিক্রির আয়ের জোড়াতালি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্লিনিক প্রধান কারিন সাবি। ২০২৪ সালে এখানে আসা রোগীদের অর্ধেকেরও বেশি ছিল বীমাবিহীন, আর পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বীমা ভর্তুকি শেষ, বাড়ছে প্রিমিয়াম
মহামারির সময় দেওয়া অতিরিক্ত ভর্তুকি বন্ধ হওয়ায় অনেক মানুষ এখন স্বাস্থ্যবীমার খরচ বহন করতে পারছেন না। গবেষণা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী গড় প্রিমিয়াম বেড়েছে প্রায় ১১৪ শতাংশ। যদিও সমর্থকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত নিবন্ধন মাত্র পাঁচ শতাংশ কমেছে, তবে স্বল্পমেয়াদে বিল বেড়ে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে অপেক্ষাকৃত সুস্থ মানুষের সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

মেডিকেডে বড় কাটছাঁট
ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে দরিদ্রদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচি মেডিকেডে। আগামী দশকে এ খাত থেকে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার কমানো হতে পারে বলে অনুমান। প্রশাসন বলছে, কর্মক্ষম মানুষদের জন্য কাজের শর্ত আরোপ করা যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ। তবে বাস্তবে মেডিকেডভুক্তদের মাত্র আট শতাংশ কাজ করেন না বা ছাড় পান। কাগজপত্রের জটিলতায় আরও অনেক মানুষ কভারেজ হারাতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, এই কাটছাঁট ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষতি ডেকে আনবে। হিসাব অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের ফলে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বীমাহীন হয়ে পড়তে পারেন। গবেষকদের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এত মানুষের কভারেজ হারানো বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫১ হাজার মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রশাসন অবশ্য এ ধরনের পূর্বাভাসকে অতিরঞ্জিত বলছে।
হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চাপ বাড়বে
বীমাহীন মানুষের সংখ্যা বাড়লে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকেই বিনা মূল্যের চিকিৎসার খরচ বহন করতে হবে। ফলে আর্থিক চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওষুধের দাম কমাতে নতুন উদ্যোগ
স্বাস্থ্য খরচ কমাতে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম নিয়েও সক্রিয় হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। “ট্রাম্পআরএক্স” নামে একটি ওয়েবসাইটে কয়েক ডজন ওষুধ কম দামে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাকে প্রশাসন যুগান্তকারী বলছে।
তবে নীতিবিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তবে এ উদ্যোগ খুব সীমিত সংখ্যক মানুষের উপকারে আসবে। কারণ এটি মূলত নগদে ওষুধ কিনতে সক্ষম রোগীদের জন্য এবং অনেক জেনেরিক ওষুধ অন্য জায়গায় আরও কম দামে পাওয়া যায়।

জনস্বাস্থ্য নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন
স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের নেতৃত্বে জনস্বাস্থ্য নীতিতেও দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। টিকাদান সুপারিশ বদলানো থেকে শুরু করে খাদ্য নির্দেশিকা পুনর্বিন্যাস—সব ক্ষেত্রেই বড় রদবদল দেখা যাচ্ছে। কিছু পরিবর্তন যেমন প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ানোর ওপর জোর দেওয়া, তা যৌক্তিক মনে করা হলেও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
রাজনীতিতেও পড়বে প্রভাব
স্বাস্থ্য খরচ নিয়ে উদ্বেগ এখন আমেরিকানদের বড় চিন্তার বিষয়। এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ চিকিৎসা ব্যয় মেটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, যা খাদ্য, বাসস্থান বা ইউটিলিটির খরচের চেয়েও বেশি।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সুবিধা কমানোর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোটাররাও টের পাবেন। যদিও কাটছাঁটের বড় অংশ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তবু রাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যাবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















