নাসা (জাতীয় মহাকাশ ও বায়ুনির্দেশিকা) জানিয়েছে, চাঁদের চারপাশে চারজন নভোচারী নিয়ে ১০দিনের মহাকাশ অভিযানের জন্য তাদের আর্টেমিস II মিশনের সম্ভাব্য উৎক্ষেপণ দিন ৬ মার্চ নির্ধারণের দিকে এগুচ্ছে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর একটি গুরুত্বপূর্ণ রকেট জ্বালানি পরীক্ষায় নাসা সফল হওয়ায় এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এবারের প্রস্তুতি কর্ম এখনও চলছে৷ এই মিশন হবে প্রায় পঞ্চাশ বছরের মধ্যে চাঁদপথে মানুষের প্রথম ভ্রমণ, যা ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের পথ খুলে দেবে।

রকেট ও প্রস্তুতির সাম্প্রতিক পরীক্ষা
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্সে নাসা দ্বিতীয়বারের মতো রকেট জ্বালানি ভর্তি ও উৎক্ষেপণ গণনা অনুশীলন সম্পন্ন করেছে, যাতে সাড়ে সাত লক্ষ গ্যালন জ্বালানি সফলভাবে ভর্তি করা হয়েছে এবং পূর্বের পরীক্ষায় যেসব হাইড্রোজেন গ্যাস লিক হয়েছিল তা এবার দেখা যায়নি। এই ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ সফল হওয়ায় ৬ মার্চে উৎক্ষেপণ সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। নাসা কর্তৃপক্ষ বলেছেন, এখনও কিছু শেষ কাজ বাকি আছে, যার মধ্যে রয়েছে রকেটের সুরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা ও কর্মযোগ্যতার চূড়ান্ত পর্যালোচনা, যা শেষ না হলে তারিখ পরিবর্তনও হতে পারে।
নভোচারীর প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
মিশনে অংশগ্রহণকারী তিনজন আমেরিকান ও একজন কানাডিয়ান নভোচারী ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য সতর্কতা হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে প্রবেশ করেছেন এবং উৎক্ষেপণের আগে ফ্লোরিডায় যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর্টেমিস II সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবে না, কিন্তু মহাকাশযান ও সেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সাফল্য ভবিষ্যতের আর্টেমিস III ও অন্যান্য চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদিও দ্বিতীয় পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সমস্যা দেখা যায়নি, নাসা কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে রকেট ও মিশনের সব উপাদান চূড়ান্তভাবে পরীক্ষিত না হলে সময়সূচি পরিবর্তন হয়ে মার্চের অন্য কোনো দিন বা পরবর্তী উইন্ডো পর্যন্ত ধাক্কা খেলেও যাবে। রকেটের ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ ও প্রযুক্তিগত যাচাইব্যবস্থা সম্পন্ন করার কাজ এখনো চলমান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















