নুরুল্লাহ শাওনের নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর অবশেষে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আনন্দ মোহন কলেজের ২৫ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল আবেদীন পার্কের বিপরীত পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে পাওয়া যায়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আনন্দ মোহন কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টাউন হল চত্বরে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে দেন তারা।
নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা
জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে বন্ধু রিফাতের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়েছিলেন শাওন। সেখানে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়লে তারা মারধরের শিকার হন। প্রাণ বাঁচাতে দুই বন্ধু আলাদা দিকে দৌঁড় দেন। রিফাত জীবিত থাকলেও শাওন নিখোঁজ হন। দীর্ঘ দুইদিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়েও তাকে খুঁজে পায়নি। অবশেষে শুক্রবার রাতে স্থানীয়রা নদের চরে শাওনের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

প্রাথমিক তদন্ত
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় পানিতে ডুবেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে।
ছাত্রদের বিক্ষোভ
শাওনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১২টার দিকে আনন্দ মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২-৩ শতাধিক শিক্ষার্থী টাউন হল চত্বরে সড়ক অবরোধ করেন। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসা বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে দেন আন্দোলনরত ছাত্ররা। এই অবস্থায় রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হতে না পারায় প্রশাসনের সকল গাড়ি আটকা পড়ে।

ছাত্ররা আশেপাশের সকল রাস্তা বন্ধ করে ধরে রেখে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা দাবি করেন, শাওনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। এছাড়া এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে জানান, অপরাধীদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















