যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম দাঁড়িয়েছে, সরকারি খরচে বড় ধাক্কা লেগে এবং মূল্যস্ফীতি তীব্র হওয়ায় বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয়ের গতিও ধীর হয়ে পড়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরকারি খরচের পতন
চতুর্থ ত্রৈমাসিকে জিডিপি বা জাতীয় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন মাত্র ১.৪ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্বাভাস করা ছিল চেয়ে অনেক কম। গত বছরের দীর্ঘ সরকারি shutdown বা সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে সরকারের ব্যয়েক বড় ধাক্কা লেগেছে এবং এটি ১৯৭২ সালের পর সর্ববৃহৎ পতন। সরকারি কর্মচারীদের সেবা ও সুবিধা কমে যাওয়ায় গৃহীত এই খরচের পতন সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিয়েছে।
ভোক্তা ব্যয় ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের অবস্থান
অন্যদিকে ভোক্তা ব্যয় কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও অর্থনৈতিক সমগ্রের বড় অংশ হওয়া সত্ত্বেও গাড়ি ক্রয়ে হওয়া ব্যয়ের পতনের কারণে তা প্রত্যাশার নিচে থেমে গেছে। উচ্চ আয়সম্পন্ন ঘরগুলোর ব্যয়ের কারণে অস্থায়ীভাবে সামর্থ্য বজায় থাকলেও পরিবারের সঞ্চয় হার কমে গেছে। গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত ব্যবসায়িক ব্যয় কিছুটা বাড়লেও শিল্প স্থাপনায় বিনিয়োগ কমেছে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ছে
চতুর্থ ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্রভাবে বাড়তে দেখা গেছে। পণ্য ও সেবার দাম দ্রুত বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এটি আগামী মাসেও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি খাত বাদ দিলে মূল মূল্যস্ফিতিও বৃদ্ধি পেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য ২ শতাংশের অনেক ওপরে রয়েছে।
আগামী দিনগুলোর পূর্বাভাস
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি shut down–এর নেতিবাচক প্রভাব আগামী প্রথম ত্রৈমাসিকে কিছুটা কমে যাবে, তবে দাম বৃদ্ধির চাপ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বহাল থাকলে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক শূন্যের নিচে সুদের হার কমানোর বিষয়ে ধীরগতি অবলম্বন করতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















