যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংস্কারের প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনে তাঁর পুনরাগমন মূলত প্রতিশোধ ও সামাজিক পুনর্বিন্যাসের অঙ্গীকার পূরণ করছে, যা দেশজুড়ে বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ: বদলের অভিমুখ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রশাসন পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পকে মধ্যপন্থী উপদেষ্টারা সীমিত করলেও, দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি আরো সशস্ত্র ও কর্তৃত্ববাদী উপদেষ্টাদের ওপর নির্ভর করছেন। এই উপদেষ্টারা সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল কাঠামো পরিবর্তনে ক্ষুদ্র কিছু নিয়মকে ছাড়িয়ে মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।

সমাজ ও ঐতিহ্যের বিরোধীচেতনায় পরিবর্তন
ট্রাম্পের সমর্থক ও প্রশাসন আধুনিকতার বিরোধিতা করছেন এবং গত শতকের অগ্রগতির অনেক সামাজিক অর্জনকে অগ্রহণযোগ্য করতে চাইছেন। শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রতি অবজ্ঞা, ইতিহাস পুনঃলিখন, ও বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এই মনোভাব আগ্রাসী সংস্কার নয় বরং সমাজের ভিত্তিভূমি ক্ষুন্ন করার দিকে পরিচালিত করছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সংকটে
যদিও ট্রাম্পের সমর্থকরা তাঁকে “দেশকে ফিরিয়ে আনাকে” মূল উদ্দেশ্য দাবি করেন, কিন্তু নিন্দুকরা মনে করেন এই পরিবর্তন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও মানুষের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভাজন বেড়েছে। সহজ-সরল মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ ট্রাম্পের কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংঘর্ষ ভীষণভাবে জোরালো হয়েছে।

উপসংহার: বিপ্লব নাকি বিপত্তি?
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শুরু হওয়া “রাজনৈতিক বিপ্লব” কি বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশকে স্থিতিশীল করবে, নাকি এটি নতুন সংকট ও সংঘাতের জন্ম দেবে — তা এখনও নিঃসীমাবদ্ধ। ২০২৫ সালকে স্মরণীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হবে ট্রাম্পের এই উত্তেজনাপূর্ণ রাজনীতির জন্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















