টোকিও: জাপানের ঐতিহ্যবাহী কিমোনো, যা শতাব্দী ধরে গীশা ও সামুরাইদের সাজ হিসেবে পরিচিত, এখন নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ফিরে এসেছে। প্রাচীন এই বস্ত্রকে কেবল ঐতিহ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে না, বরং এটি টেকসই ফ্যাশনের প্রতীক হিসেবেও প্রশংসিত হচ্ছে। প্রকৃত সিল্কের কিমোনো, যার অর্থই “পরা বস্তু”, একশ বছর বা তারও বেশি সময় টিকে থাকতে পারে। জাপানি পরিবারে এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হেরিটেজ জুয়েলারি, চিত্রকর্ম বা সামরিক পদকের মতোই সংরক্ষণ করা হয়।
কিমোনোর নতুন রূপান্তর
কিন্তু আজকাল অনেক ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা কিমোনোকে নতুন ফ্যাশনের আকারে পুনর্নির্মাণ করছেন। তারা পুরনো কিমোনোকে খুলে জ্যাকেট, ড্রেস, প্যান্ট বা ব্যাগে রূপান্তর করছেন। কিমোনো পুনর্নির্মাণের ব্যবসা K’forward-এর প্রধান মারি কুবো বলেন, “অনেক সুন্দর কিমোনো শুধু আলমারিতে পড়ে থাকে। এটি সত্যিই অপচয়।”
K’forward-এ বিশেষ জনপ্রিয় টোমেসোডে নামের কিমোনো, যা কালো রঙের এবং নিচে রঙিন ফুল, পাখি বা গাছপালা নকশা থাকে। এই কিমোনোকে রাখা হয় জ্যাকেটের আকারে, দীর্ঘ হাতা ও কেন্দ্রীয় নকশা বজায় রেখে। অনুরূপ নকশার কিমোনো দিয়ে মিলিয়ে স্কার্ট বা প্যান্ট তৈরি করা হয়। কখনো কখনো ওবিকে কলারে ব্যবহার করে রঙের খেলার সংযোজন করা হয়।
কিমোনোর টেকসই দিক
কুবো বলেন, অনেক তরুণ কিমোনো পরতে চান কিন্তু জটিলতা এড়াতে চান। K’forward-এ একটি রিমেড ফুরিসোডে দাম ১,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে, আর কালো টোমেসোডের দাম প্রায় ১৬০ ডলার।
ডিজাইনার তোমোকো ওহকাটা বলেন, পুরনো কিমোনো ব্যবহার করে ডিজাইন তৈরি করতে পারলে তাকে কোনো অপরাধবোধ হয় না, বরং এটি পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করছে। জাপানে পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলো প্রতিদিন হাজার হাজার কিমোনো সংগ্রহ করে, যা পরিবারে জমে থাকে।
কিমোনোর নতুন দর্শন
অনেকেই কিমোনোকে শুধুমাত্র বিশেষ অনুষ্ঠানে যেমন বিবাহে পরিধান করেন। অনেক নারী পশ্চিমা বিবাহের পোশাক পরতে পছন্দ করেন অথবা উভয়ই ব্যবহার করেন। ওহকাটার গ্রাহকরা বাড়িতে থাকা কিমোনোকে নতুন জীবন দিতে চান এবং এর গল্পের প্রতি যত্নশীল।
তার ছোট দোকানে বিভিন্ন ডল প্রদর্শিত হয়, যা রিসাইকেল করা কিমোনো দিয়ে তৈরি। যেমন সম্রাট ও তাঁর স্ত্রীদের মূর্তিরা ছোট মাপের কিমোনোতে সাজানো থাকে। এই ডলদ্বয় ১,৬০০ ডলারে বিক্রি হয়।
শিক্ষণ ও নতুন ব্যবহারের ধারা
কিয়োটোর একটি স্কুলের প্রধান নাও শিমিজু বলেন, কিমোনো পরার প্রথা শেখা সম্ভব, এবং আধুনিক তরুণরা কিমোনোকে আরও স্বাধীনভাবে পরছেন, কখনো বুটের সঙ্গে মিলিয়ে। ঐতিহ্যবাহী জোরি স্যান্ডালের পরিবর্তে এটি আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হচ্ছে।
গায়িকা সুমিয়ে কানেকো যিনি কোটো ও শামিসেন বাজান, তিনি রিসাইকেল করা কিমোনো দিয়ে তৈরি ঝলমলে পোশাক পরেন। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিকভাবে টেকসই ধারণা আমাদের জীবনের অংশ। পুরনো নকশা ও রঙ নতুন জীবন পায়।”
পুরনো কিমোনো পুনরুজ্জীবিত হয়ে নতুন ফ্যাশন ও পরিবেশ সচেতনতার এক নতুন ধারার জন্ম দিচ্ছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জাপানের ঐতিহ্য ধরে রাখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















