০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মার্কিন পরিবারের জন্য ট্রাম্পের শুল্ক ফেরতের দাবি জোরালো সিঙ্গাপুরে জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব বেড়েছে: তাপমাত্রা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিপদের সংকেত ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শীর্ষ সম্মেলনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার সংমিশ্রণ রমজান মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলার কঠোর নিন্দা জানাল ভারত মার‑এ‑লাগোতে নিরাপত্তা ভেঙে প্রবেশ, অস্ত্রধারী ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ভারতের ‘বুং’ সিনেমা ইতিহাস সৃষ্টি করলো, BAFTA-এ জিতলো সেরা শিশু ও পারিবারিক সিনেমার পুরস্কার আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা: ৮০ জন সন্ত্রাসী নিহত , সীমান্ত উত্তেজনা তীব্র করাচি প্রদেশ বিরোধী সিন্ধ প্রস্তাব ‘সংবিধিবিরোধী’: এমকিউএম-পি তীব্র প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের বিস্তারের দাবি: মার্কিন দূতের মন্তব্যে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর কড়া প্রতিবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের আগাম ফোটা, আবাদিদের মনে নতুন আশা

ট্রাম্পের যুদ্ধমুখী পদক্ষেপে উত্তেজনা: ইরান ইস্যুতে ঝুঁকির মুখে মার্কিন রাজনীতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বাড়াতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন—এমন আশঙ্কা বাড়ছে নীতিনির্ধারক মহলে। তবে তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা মনে করছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগেই বেশি মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক জোরদার, স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারে সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থানে নেওয়া হতে পারে—সে বিষয়ে মার্কিন জনগণের সামনে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প।

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম এক বছরে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে সামরিক শক্তির ব্যবহার, তার অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয়সহ অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো আড়ালে পড়ছে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত মিলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে মার্কিন সামরিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র |  দৈনিক নয়া দিগন্ত

 

প্রশাসনের ভেতরে একমত নয় সবাই

হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কড়া বক্তব্য সত্ত্বেও ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে প্রশাসনের ভেতরে এখনো ঐক্যবদ্ধ সমর্থন নেই। একই সঙ্গে অনির্ধারিত ভোটারদের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা যাওয়া এড়াতেও সতর্ক ট্রাম্পের সহযোগীরা।

এই সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে অর্থনীতিকে প্রধান ইস্যু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ঝুঁকি

নভেম্বরের নির্বাচন নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না। একটি কক্ষও হারালে ট্রাম্পের জন্য তা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ রোব গডফ্রের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত ট্রাম্প ও তার দলের জন্য গুরুতর রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ “অন্তহীন যুদ্ধ” বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিই ছিল তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ভিত্তি।

Trump Pushes US Toward War with Iran as Advisers Urge Focus on Economy

ভেনেজুয়েলার চেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ ইরান

গত মাসে ভেনেজুয়েলায় দ্রুত অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্পপন্থীদের বড় অংশ সমর্থন দিলেও ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।

ট্রাম্প আবারও সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় না এলে তেহরানকে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে। এর আগে জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর তেহরান কঠোর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

অস্পষ্ট যুদ্ধের কারণ নিয়ে প্রশ্ন

সম্ভাব্য হামলার কারণ হিসেবে ট্রাম্প ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছেন। কখনো বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকা, কখনো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবি—এমন নানা ব্যাখ্যা দিলেও কীভাবে বিমান হামলা “শাসন পরিবর্তন” ঘটাতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

এই অস্পষ্টতা অনেকের কাছে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপনের ঘটনাকে, যেখানে লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

Stock markets aren't moving on Iran, Greenland and Venezuela risks

সামনে কঠিন সমীকরণ

জনমত জরিপ বলছে, নতুন কোনো বিদেশি যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে মার্কিন জনগণের আগ্রহ কম। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ভোটারদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

এ অবস্থায় ইরান ইস্যুতে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ প্রেসিডেন্টের জন্য বড় রাজনৈতিক বাজি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন পরিবারের জন্য ট্রাম্পের শুল্ক ফেরতের দাবি জোরালো

ট্রাম্পের যুদ্ধমুখী পদক্ষেপে উত্তেজনা: ইরান ইস্যুতে ঝুঁকির মুখে মার্কিন রাজনীতি

১২:১২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বাড়াতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন—এমন আশঙ্কা বাড়ছে নীতিনির্ধারক মহলে। তবে তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা মনে করছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগেই বেশি মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক জোরদার, স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারে সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থানে নেওয়া হতে পারে—সে বিষয়ে মার্কিন জনগণের সামনে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প।

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম এক বছরে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে সামরিক শক্তির ব্যবহার, তার অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয়সহ অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো আড়ালে পড়ছে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত মিলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে মার্কিন সামরিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র |  দৈনিক নয়া দিগন্ত

 

প্রশাসনের ভেতরে একমত নয় সবাই

হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কড়া বক্তব্য সত্ত্বেও ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে প্রশাসনের ভেতরে এখনো ঐক্যবদ্ধ সমর্থন নেই। একই সঙ্গে অনির্ধারিত ভোটারদের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা যাওয়া এড়াতেও সতর্ক ট্রাম্পের সহযোগীরা।

এই সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে অর্থনীতিকে প্রধান ইস্যু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ঝুঁকি

নভেম্বরের নির্বাচন নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না। একটি কক্ষও হারালে ট্রাম্পের জন্য তা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ রোব গডফ্রের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত ট্রাম্প ও তার দলের জন্য গুরুতর রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ “অন্তহীন যুদ্ধ” বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিই ছিল তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ভিত্তি।

Trump Pushes US Toward War with Iran as Advisers Urge Focus on Economy

ভেনেজুয়েলার চেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ ইরান

গত মাসে ভেনেজুয়েলায় দ্রুত অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্পপন্থীদের বড় অংশ সমর্থন দিলেও ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।

ট্রাম্প আবারও সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় না এলে তেহরানকে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে। এর আগে জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর তেহরান কঠোর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

অস্পষ্ট যুদ্ধের কারণ নিয়ে প্রশ্ন

সম্ভাব্য হামলার কারণ হিসেবে ট্রাম্প ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছেন। কখনো বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকা, কখনো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবি—এমন নানা ব্যাখ্যা দিলেও কীভাবে বিমান হামলা “শাসন পরিবর্তন” ঘটাতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

এই অস্পষ্টতা অনেকের কাছে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপনের ঘটনাকে, যেখানে লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

Stock markets aren't moving on Iran, Greenland and Venezuela risks

সামনে কঠিন সমীকরণ

জনমত জরিপ বলছে, নতুন কোনো বিদেশি যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে মার্কিন জনগণের আগ্রহ কম। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ভোটারদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

এ অবস্থায় ইরান ইস্যুতে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ প্রেসিডেন্টের জন্য বড় রাজনৈতিক বাজি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।