০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মার্কিন পরিবারের জন্য ট্রাম্পের শুল্ক ফেরতের দাবি জোরালো সিঙ্গাপুরে জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব বেড়েছে: তাপমাত্রা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিপদের সংকেত ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শীর্ষ সম্মেলনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার সংমিশ্রণ রমজান মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলার কঠোর নিন্দা জানাল ভারত মার‑এ‑লাগোতে নিরাপত্তা ভেঙে প্রবেশ, অস্ত্রধারী ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ভারতের ‘বুং’ সিনেমা ইতিহাস সৃষ্টি করলো, BAFTA-এ জিতলো সেরা শিশু ও পারিবারিক সিনেমার পুরস্কার আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা: ৮০ জন সন্ত্রাসী নিহত , সীমান্ত উত্তেজনা তীব্র করাচি প্রদেশ বিরোধী সিন্ধ প্রস্তাব ‘সংবিধিবিরোধী’: এমকিউএম-পি তীব্র প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের বিস্তারের দাবি: মার্কিন দূতের মন্তব্যে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর কড়া প্রতিবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের আগাম ফোটা, আবাদিদের মনে নতুন আশা

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে পারমাণবিক ছাড়ে প্রস্তুত তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন বার্তা দিয়েছে তেহরান। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃত হলে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে প্রস্তুত—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।

দুই পক্ষের অবস্থান এখনও দূরে

দুই দফা আলোচনা হলেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিধি, সময়সূচি এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন বলে কর্মকর্তাটি জানান।

তবে প্রথমবারের মতো ইরান নতুন ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বিশ্লেষকদের মতে আলোচনাকে বাঁচিয়ে রাখার এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়ানোর কৌশল।

Tehran is ready for nuclear concessions if US meets demands, Iranian  official says

 

ইরানের প্রস্তাব: ইউরেনিয়াম কমানো ও বিদেশে পাঠানো

ইরানি সূত্র বলছে, তেহরান কয়েকটি পদক্ষেপ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠানো, অবশিষ্ট অংশের সমৃদ্ধতার মাত্রা কমিয়ে আনা এবং একটি আঞ্চলিক সমৃদ্ধকরণ কনসোর্টিয়াম গঠনে অংশ নেওয়া।

এর বিনিময়ে ইরান চায় তাদের “শান্তিপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ”-এর অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হোক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।

তেল–গ্যাস খাতে মার্কিন বিনিয়োগের প্রস্তাব

আলোচনার অর্থনৈতিক প্যাকেজের অংশ হিসেবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের প্রণোদনা দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের বিশাল তেল ও গ্যাস শিল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ঠিকাদার হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, তাদের তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই হস্তান্তর করা হবে না। একজন ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক অংশীদার হতে পারে—এর বেশি কিছু নয়।

Tehran ready for nuclear concessions if U.S. meets demands, Iranian  official says

হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া নেই

এই প্রস্তাব সম্পর্কে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মনে করে, ইরানের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

হোয়াইট হাউস | ইতিহাস, অবস্থান, এবং তথ্য | ব্রিটানিকা

সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে

চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার আলোচনা শুরু করে, যখন ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছিল। ইরান সতর্ক করেছে, দেশটিতে হামলা হলে তারা অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাবে।

ইরানি কর্মকর্তার মতে, সর্বশেষ আলোচনা দুই পক্ষের দূরত্ব স্পষ্ট করেছে, তবে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ‘যৌক্তিক সময়সূচি’ চায় তেহরান

ইরানি কর্মকর্তা বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কাঠামো ও পদ্ধতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ইরানের দাবির সঙ্গে মেলে না। তাই উভয় পক্ষকে একটি “যৌক্তিক সময়সূচি”তে একমত হতে হবে।

তার ভাষায়, এই রোডম্যাপ হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক।

 

জেনেভায় নতুন বৈঠকের আশা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার জেনেভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ–এর সঙ্গে বৈঠকের আশা করছেন। তাঁর মতে, কূটনৈতিক সমাধানের এখনও “ভালো সম্ভাবনা” রয়েছে।

তিনি শুক্রবার জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই একটি পাল্টা প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত হবে। একই সময়ে ট্রাম্প সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও ইঙ্গিত দেন।

তুরস্কে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

ওয়াশিংটনের প্রশ্ন: কেন নতি স্বীকার করছে না ইরান

ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ থাকা সত্ত্বেও কেন ইরান এখনও তাদের কাছে এসে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রস্তাব দিচ্ছে না—এ বিষয়টি প্রেসিডেন্টের কাছে প্রশ্ন হিসেবে রয়েছে।

‘সময় কেনার কৌশল’ দেখছেন বিশ্লেষকরা

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের ইরান প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ পরিচালক বেহনাম বেন তালেবলু মনে করেন, ইরানের নেতৃত্ব আলোচনার মাধ্যমে সময় কিনতে চাইছে।

তার মতে, তেহরান এই সময় ব্যবহার করতে পারে সম্ভাব্য হামলা এড়ানো এবং তাদের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক স্থাপনাগুলো আরও শক্তিশালী করার জন্য।

‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ নয়, তবু নমনীয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ‘জিরো এনরিচমেন্ট’ দাবি—যা অতীত আলোচনায় বড় বাধা ছিল—ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পারমাণবিক কার্যক্রমে কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।

বাড়তি নজরদারিতে রাজি তেহরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানি আল জাজিরাকে জানান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো লক্ষ্য নেই—এটি প্রমাণ করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বিস্তৃত নজরদারি মেনে নিতে প্রস্তুত তেহরান।

সংস্থাটি গত কয়েক মাস ধরে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে আসছে, যেগুলো গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তেহরান দাবি করেছে, সেই সময়ের পর তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

আলী লারিজানি - উইকিপিডিয়া

স্যাটেলাইট ছবিতে নতুন কার্যক্রমের ইঙ্গিত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে—গত বছর ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনায় ইরান নতুন স্থাপনার ওপর কংক্রিটের আবরণ দিয়েছে এবং মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।

আঞ্চলিক ইস্যুতে মতবিরোধ

ওয়াশিংটনের দাবির মধ্যে রয়েছে ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।

ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আঞ্চলিক প্রক্সি বিষয়টি তেহরানের জন্য একেবারে অচলাবস্থার বিষয় নয়।

১২০০ কিলোমিটার পাল্লার নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন ইরানের |  আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

অর্থনৈতিক লাভের বার্তা

ইরানি কর্তৃপক্ষ মনে করে, কূটনৈতিক সমাধান হলে তেহরান ও ওয়াশিংটন—দুই পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক অংশীদার হতে পারে, তবে দেশের তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ তেহরান কোনো অবস্থাতেই ছাড়বে না।

সামনে অনিশ্চিত পথ

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও আস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে আছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং পারমাণবিক সীমাবদ্ধতার মাত্রা—এই দুই বিষয়েই সমঝোতা সবচেয়ে কঠিন হবে।

তবুও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মার্কিন পরিবারের জন্য ট্রাম্পের শুল্ক ফেরতের দাবি জোরালো

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে পারমাণবিক ছাড়ে প্রস্তুত তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন অব্যাহত

১২:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন বার্তা দিয়েছে তেহরান। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃত হলে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে প্রস্তুত—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।

দুই পক্ষের অবস্থান এখনও দূরে

দুই দফা আলোচনা হলেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিধি, সময়সূচি এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন বলে কর্মকর্তাটি জানান।

তবে প্রথমবারের মতো ইরান নতুন ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বিশ্লেষকদের মতে আলোচনাকে বাঁচিয়ে রাখার এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়ানোর কৌশল।

Tehran is ready for nuclear concessions if US meets demands, Iranian  official says

 

ইরানের প্রস্তাব: ইউরেনিয়াম কমানো ও বিদেশে পাঠানো

ইরানি সূত্র বলছে, তেহরান কয়েকটি পদক্ষেপ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠানো, অবশিষ্ট অংশের সমৃদ্ধতার মাত্রা কমিয়ে আনা এবং একটি আঞ্চলিক সমৃদ্ধকরণ কনসোর্টিয়াম গঠনে অংশ নেওয়া।

এর বিনিময়ে ইরান চায় তাদের “শান্তিপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ”-এর অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হোক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।

তেল–গ্যাস খাতে মার্কিন বিনিয়োগের প্রস্তাব

আলোচনার অর্থনৈতিক প্যাকেজের অংশ হিসেবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের প্রণোদনা দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের বিশাল তেল ও গ্যাস শিল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ঠিকাদার হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, তাদের তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই হস্তান্তর করা হবে না। একজন ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক অংশীদার হতে পারে—এর বেশি কিছু নয়।

Tehran ready for nuclear concessions if U.S. meets demands, Iranian  official says

হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া নেই

এই প্রস্তাব সম্পর্কে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মনে করে, ইরানের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

হোয়াইট হাউস | ইতিহাস, অবস্থান, এবং তথ্য | ব্রিটানিকা

সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে

চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার আলোচনা শুরু করে, যখন ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছিল। ইরান সতর্ক করেছে, দেশটিতে হামলা হলে তারা অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাবে।

ইরানি কর্মকর্তার মতে, সর্বশেষ আলোচনা দুই পক্ষের দূরত্ব স্পষ্ট করেছে, তবে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ‘যৌক্তিক সময়সূচি’ চায় তেহরান

ইরানি কর্মকর্তা বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কাঠামো ও পদ্ধতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ইরানের দাবির সঙ্গে মেলে না। তাই উভয় পক্ষকে একটি “যৌক্তিক সময়সূচি”তে একমত হতে হবে।

তার ভাষায়, এই রোডম্যাপ হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক।

 

জেনেভায় নতুন বৈঠকের আশা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার জেনেভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ–এর সঙ্গে বৈঠকের আশা করছেন। তাঁর মতে, কূটনৈতিক সমাধানের এখনও “ভালো সম্ভাবনা” রয়েছে।

তিনি শুক্রবার জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই একটি পাল্টা প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত হবে। একই সময়ে ট্রাম্প সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও ইঙ্গিত দেন।

তুরস্কে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

ওয়াশিংটনের প্রশ্ন: কেন নতি স্বীকার করছে না ইরান

ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ থাকা সত্ত্বেও কেন ইরান এখনও তাদের কাছে এসে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রস্তাব দিচ্ছে না—এ বিষয়টি প্রেসিডেন্টের কাছে প্রশ্ন হিসেবে রয়েছে।

‘সময় কেনার কৌশল’ দেখছেন বিশ্লেষকরা

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের ইরান প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ পরিচালক বেহনাম বেন তালেবলু মনে করেন, ইরানের নেতৃত্ব আলোচনার মাধ্যমে সময় কিনতে চাইছে।

তার মতে, তেহরান এই সময় ব্যবহার করতে পারে সম্ভাব্য হামলা এড়ানো এবং তাদের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক স্থাপনাগুলো আরও শক্তিশালী করার জন্য।

‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ নয়, তবু নমনীয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ‘জিরো এনরিচমেন্ট’ দাবি—যা অতীত আলোচনায় বড় বাধা ছিল—ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পারমাণবিক কার্যক্রমে কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।

বাড়তি নজরদারিতে রাজি তেহরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানি আল জাজিরাকে জানান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো লক্ষ্য নেই—এটি প্রমাণ করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বিস্তৃত নজরদারি মেনে নিতে প্রস্তুত তেহরান।

সংস্থাটি গত কয়েক মাস ধরে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে আসছে, যেগুলো গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তেহরান দাবি করেছে, সেই সময়ের পর তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

আলী লারিজানি - উইকিপিডিয়া

স্যাটেলাইট ছবিতে নতুন কার্যক্রমের ইঙ্গিত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে—গত বছর ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনায় ইরান নতুন স্থাপনার ওপর কংক্রিটের আবরণ দিয়েছে এবং মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।

আঞ্চলিক ইস্যুতে মতবিরোধ

ওয়াশিংটনের দাবির মধ্যে রয়েছে ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।

ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আঞ্চলিক প্রক্সি বিষয়টি তেহরানের জন্য একেবারে অচলাবস্থার বিষয় নয়।

১২০০ কিলোমিটার পাল্লার নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন ইরানের |  আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

অর্থনৈতিক লাভের বার্তা

ইরানি কর্তৃপক্ষ মনে করে, কূটনৈতিক সমাধান হলে তেহরান ও ওয়াশিংটন—দুই পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক অংশীদার হতে পারে, তবে দেশের তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ তেহরান কোনো অবস্থাতেই ছাড়বে না।

সামনে অনিশ্চিত পথ

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও আস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে আছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং পারমাণবিক সীমাবদ্ধতার মাত্রা—এই দুই বিষয়েই সমঝোতা সবচেয়ে কঠিন হবে।

তবুও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।