০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এর মতামতঃ   প্রধানমন্ত্রীর আসল পরীক্ষা শুরু হয় ক্ষমতায় বসার পর বাংলাদেশের স্বস্তির জয়, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো টাইগাররা ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫; ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বাস ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটেছে: রুমিন ফারহানা পুঁজির বিশাল স্রোতে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি, বাড়ছে নতুন ঝুঁকি রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী শিল্পপতির নতুন পরিকল্পনা: পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্বপ্ন অপরাধের দায়ে শিশুদের বিচার: বয়স কমানোর প্রবণতা কি নতুন সংকট ডেকে আনছে? বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রি করছে ফিফা, এক টুকরার দাম প্রায় ৪৫০ ডলার খামেনির পর ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র: যুদ্ধের পথে তেহরান, নাকি কূটনীতির শেষ সুযোগ? নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাঠই কি হতে পারে সমাধান?

ইরান-রাশিয়ার গোপন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনার আভাস

ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে একটি গোপন ৫০০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের অস্ত্র চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে হাজার হাজার আধুনিক কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এই চুক্তি গত ডিসেম্বর মস্কোতে স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির বিস্তৃত বিবরণ

চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে তিন বছরের মধ্যে ৫০০টি ‘ভার্বা’ লঞ্চ ইউনিট এবং ২,৫০০টি ‘৯এম৩৩৬’ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। এই সরঞ্জামগুলো আধুনিক কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হবে। ফাঁস হওয়া নথি ও কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে এই চুক্তির বিস্তারিত জানা গেছে।

চুক্তিটি রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘রোসোবোরোনএক্সপোর্ট’ এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের মস্কো প্রতিনিধির মধ্যে আলোচনা ও চূড়ান্তকৃত হয়েছে। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে গত বছরের জুলাইয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চেয়েছিল।

Iran agreed secret shoulder-fired missile deal with Russia: Report

সরবরাহের সময়সূচি ও পরিকল্পনা

চুক্তি অনুযায়ী অস্ত্র সরবরাহ হবে তিন ধাপে, যা শুরু হবে ২০২৭ সাল থেকে এবং শেষ হবে ২০২৯ সালে। এটি ইরানের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সরবরাহ ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পারমাণবিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তবে প্রাথমিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়, ওই হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি, বরং সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, যুদ্ধের ক্ষতি তারা কাটিয়ে উঠেছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। ফলে রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করার পরিকল্পনা তেহরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Iran in secret deal with Russia for hundreds of shoulder-fired missiles:  report | South China Morning Post

রাশিয়া-ইরান সামরিক সম্পর্ক

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে, তবে এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা অন্তর্ভুক্ত নয়। ফেব্রুয়ারি মাসে সম্প্রতি রাশিয়ার নৌবাহিনীর একটি করভেট ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে ওমান উপসাগরে যৌথ মহড়া চালায়। এটি দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে এই গোপন অস্ত্র চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

যেভাবে গভীর হচ্ছে ইরান-রাশিয়া সম্পর্ক

ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা বিশ্বমঞ্চে নতুন প্রশ্নের উদ্রেক করছে। এর প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে বড় রাজনীতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এর মতামতঃ   প্রধানমন্ত্রীর আসল পরীক্ষা শুরু হয় ক্ষমতায় বসার পর

ইরান-রাশিয়ার গোপন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনার আভাস

১২:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে একটি গোপন ৫০০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের অস্ত্র চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে হাজার হাজার আধুনিক কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এই চুক্তি গত ডিসেম্বর মস্কোতে স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির বিস্তৃত বিবরণ

চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে তিন বছরের মধ্যে ৫০০টি ‘ভার্বা’ লঞ্চ ইউনিট এবং ২,৫০০টি ‘৯এম৩৩৬’ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। এই সরঞ্জামগুলো আধুনিক কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হবে। ফাঁস হওয়া নথি ও কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে এই চুক্তির বিস্তারিত জানা গেছে।

চুক্তিটি রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘রোসোবোরোনএক্সপোর্ট’ এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের মস্কো প্রতিনিধির মধ্যে আলোচনা ও চূড়ান্তকৃত হয়েছে। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে গত বছরের জুলাইয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চেয়েছিল।

Iran agreed secret shoulder-fired missile deal with Russia: Report

সরবরাহের সময়সূচি ও পরিকল্পনা

চুক্তি অনুযায়ী অস্ত্র সরবরাহ হবে তিন ধাপে, যা শুরু হবে ২০২৭ সাল থেকে এবং শেষ হবে ২০২৯ সালে। এটি ইরানের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সরবরাহ ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পারমাণবিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তবে প্রাথমিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়, ওই হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি, বরং সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, যুদ্ধের ক্ষতি তারা কাটিয়ে উঠেছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। ফলে রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করার পরিকল্পনা তেহরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Iran in secret deal with Russia for hundreds of shoulder-fired missiles:  report | South China Morning Post

রাশিয়া-ইরান সামরিক সম্পর্ক

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে, তবে এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা অন্তর্ভুক্ত নয়। ফেব্রুয়ারি মাসে সম্প্রতি রাশিয়ার নৌবাহিনীর একটি করভেট ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে ওমান উপসাগরে যৌথ মহড়া চালায়। এটি দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে এই গোপন অস্ত্র চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

যেভাবে গভীর হচ্ছে ইরান-রাশিয়া সম্পর্ক

ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা বিশ্বমঞ্চে নতুন প্রশ্নের উদ্রেক করছে। এর প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে বড় রাজনীতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।