আদালতে উপস্থিতি ও মামলা পরিচালনা
৩২ বছর বয়সী নিক রেইনারকে দুইবার আদালতে হাজির করার তারিখ পরিবর্তিত হওয়ার পর সোমবার সংক্ষিপ্ত শুনানিতে আনা হয়। তার প্রাথমিক আইনজীবী হঠাৎ করেই পদত্যাগ করায় তাকে নতুনভাবে পাবলিক ডিফেন্ডারের সহায়তায় আদালতে হাজির করা হয়েছে। নিককে জামিন ছাড়া কারাগারে রাখা হবে।
নিক রেইনারকে দুইজনের হত্যা মামলায় প্রথম ডিগ্রির হত্যা অভিযোগে আদালতে হাজির করা হয়েছে। নিহতরা হলেন ৭৮ বছর বয়সী অভিনেতা-পরিচালক রবার্ট রেইনার এবং ৭০ বছর বয়সী ফটোগ্রাফার-প্রযোজক মিশেল রেইনার। তাদের দেহ ডিসেম্বর ১৪ তারিখে ওয়েস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসভবনে পাওয়া যায়।
শারীরিক অবস্থা ও আদালতের আচরণ
আদালতে কাচের পর্দার পেছনে বসে, বাদামি কারাগারের পোশাক পরা নিক রেইনার সাধারণভাবে সজাগ ছিলেন। তিনি দ্রুত শুনানির অধিকার ত্যাগের প্রশ্নে কেবল ‘হ্যাঁ’ বলে উত্তর দেন এবং অন্য কোনো বক্তব্য দেননি।
তদন্ত ও প্রাথমিক শুনানি
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক থেরেসা ম্যাকগনিগল প্রাথমিক শুনানি নির্ধারণ করেছেন। সেখানে প্রসিকিউটররা সাক্ষ্য উপস্থাপন করবেন যা পরবর্তী ট্রায়ালে যাওয়ার যথাযথ কারণ দেখাবে। প্রাথমিক শুনানি এপ্রিল ২৯ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
নিক রেইনার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং তখন থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

হলিউডে শোক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক
রবার্ট রেইনার হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ১৯৭০-এর দশকে টেলিভিশন কমেডি ‘অল ইন দ্য ফ্যামিলি’ দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’, ‘দিস ইস স্পাইনাল ট্যাপ’ ও ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’ মতো জনপ্রিয় ছবি পরিচালনা করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সক্রিয় সমর্থক ও দাতা ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি ও তার স্ত্রী মিশেল অবশেষে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং মিশেল ওবামার সঙ্গে এক সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
নিক রেইনারের বাবা-মায়ের সঙ্গে পার্টিতে ঝগড়া হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ঘটনার পেছনের কারণ এখনো স্পষ্ট হয়নি। অটোপসি অনুযায়ী নিহতরা বহু ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছেন।
পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া
নিক রেইনার যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তিনি কারাগারে আজীবন সময় কাটাবেন, অথবা প্রসিকিউটররা মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। উচ্চপ্রোফাইল মামলা ও তার মাদকাসক্তির ইতিহাস পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে কিনা তা দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















