চীনের বিচ্ছিন্নতা এবং ওয়াসেনার ব্যবস্থা
ওয়াসেনার অ্যারেঞ্জমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই চীনের জন্য বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের কাছে বিচ্ছিন্নতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়ে এসেছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা অস্ত্র ও উন্নত প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করে। এর ৪২টি সদস্য দেশের মধ্যে রয়েছে প্রায় সব উন্নত পশ্চিমা দেশ, রাশিয়ার মতো চীনের ঘনিষ্ঠ দেশ এবং ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশ।
উন্নত প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত করা
এই দেশেরা মিলিত হয়ে নন-মেম্বার দেশের কাছে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের প্রবেশাধিকারের পথে বাধা সৃষ্টি করে। চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ব্যবস্থা শত্রুতাপূর্ণ এবং বেদনাদায়ক হিসেবে ধরা হয়। এ কারণে চীনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করেছে।
৩০ বছর পূর্তি এবং চীনের অগ্রগতি
এই বছর ওয়াসেনার অ্যারেঞ্জমেন্টের ৩০তম বর্ষপূর্তি।IRONICALLY, চীনের সামরিক প্রযুক্তি এখন পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সমানতালে বা কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও এগিয়ে। চীন ইতিমধ্যেই এয়ার-ব্রিদিং ইঞ্জিনযুক্ত হাইপারসনিক মিসাইল এবং উচ্চ ক্ষমতার লেজার অস্ত্র সেবা ব্যবস্থায় যুক্ত করেছে।
আধুনিক সামরিক প্রগতি
চীনের বৃহৎ ড্রোন ক্যারিয়ার, যা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট দ্বারা সজ্জিত, সমুদ্র পরীক্ষা চলাকালীন। ষষ্ঠ-প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেটগুলি কঠোর পরীক্ষা ফ্লাইটে রয়েছে। মানবাকৃতি রোবট এবং রোবোটিক কুকুরের ক্ষেত্রে চীন প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতায় বিশ্বনেতৃত্ব করছে।

আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদন
চীন এখন এমন সেমিকন্ডাক্টর ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং উপাদানের প্রধান উৎপাদক, যা অস্ত্র এবং সাইবার যুদ্ধ ব্যবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
চীনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এই পর্যায়ে ওয়াসেনার অ্যারেঞ্জমেন্টে যোগদান নিয়ে বৈশ্বিক নজর তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, চীন কি এই ৩০ বছর পুরনো অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ ক্লাবে নিজের স্থান নিশ্চিত করবে, নাকি এ পদক্ষেপ আরও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে?

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















