রাশিয়ার পরমাণু ত্রয়ীকে “অপরিবর্তনীয় অগ্রাধিকার” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন। দেশের সামরিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়াসের অংশ হিসেবে তিনি দেশের সেনা ও নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সোমবার জাতীয় “পিতার রক্ষা দিবস” উপলক্ষে ভিডিও ভাষণে পুতিন এই মন্তব্য করেন এবং কিয়েভের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মধ্যে দেশীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেবাদানকারী সৈন্যদের প্রশংসা করেন।

পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত যুদ্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমস্ত সামরিক শাখার যুদ্ধ প্রস্তুতি উন্নত করা হবে। রাশিয়ার বিজ্ঞান ও উচ্চ-প্রযুক্তি শিল্প এই উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হবে। তিনি বলেন, “পরমাণু ত্রয়ীর উন্নয়ন রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং বৈশ্বিক শক্তি ভারসাম্য রক্ষা করতে আমাদের কার্যকর কৌশলগত প্রতিরোধ সক্ষম করে। এটি আমাদের অপরিবর্তনীয় অগ্রাধিকার।”
এই বক্তব্য আসে নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে প্রতিটি দেশের সীমিত পরিমাণ কৌশলগত পরমাণু যুদ্ধাস্ত্র ও ডেলিভারি সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং নিয়মিত স্থানীয় পরিদর্শন নিশ্চিত করার ধারা ছিল। চুক্তি শেষ হওয়ার পরও রাশিয়া জোর দিয়ে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি একই দৃষ্টিকোণ গ্রহণ করে, তবে মস্কো “উত্তেজনা বাড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ নেবে না” এবং যুদ্ধাস্ত্র সংখ্যা বাড়াবে না।

নতুন পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ প্রকাশের পর চীন এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনের যুক্তি, এটি “ন্যায্য বা যুক্তিসঙ্গত নয়” কারণ তাদের অস্ত্রাগার রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম সক্ষম।
রাশিয়ার পরমাণু শক্তি, সেনা ও নৌবাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধ অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে আরও শক্তিশালী করার এই পরিকল্পনা, দেশের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক শক্তি ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















