১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
শেখ হাসিনার ‘দেশে ফেরার’ বক্তব্য নিয়ে যা বলছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি জন্মের পরই জিন বিশ্লেষণ, আশীর্বাদ নাকি নতুন দুশ্চিন্তা? এক বছরে ২৫ শতাংশ বেড়েছে মাইক্রোসফটের কার্বন নিঃসরণ, এআই ডেটা সেন্টারের বিস্তারেই বাড়ছে চাপ বিটকয়েন ধসে এরিক ট্রাম্পের ৬০ কোটি ডলারেরও বেশি লোকসান, সংকটে পারিবারিক ক্রিপ্টো উদ্যোগ আইরল্যান্ডে পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার পর দেশ ছাড়লেন নিউইয়র্কের নারীর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন, তদন্তে নতুন শঙ্কা যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহের দাপট অব্যাহত, ৩৫ ডিগ্রি ছুঁয়েও স্বস্তির দেখা নেই ইন্টারনেটে ভুয়া ‘পোর্টেবল এসি’র ছড়াছড়ি, ৯০ সেকেন্ডে ঘর ঠান্ডার দাবি আসলে কতটা সত্য? বিতর্ক, স্পষ্টভাষিতা ও নিজস্ব অবস্থানে আলোচিত ছিলেন অ্যান উইডিকম্ব মোনাকো বোমা হামলা রহস্যে নতুন মোড়, হত্যার স্বীকারোক্তি বদলে দিলেন ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিনেসোটায় ক্ষমার পরও শিশুধর্ষণে দণ্ডিত অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

ইইউ ঋণ আটকে দিল হাঙ্গেরি, তেল সংকটে ইউক্রেন নিয়ে উত্তেজনা চরমে

ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন অচলাবস্থা তৈরি করেছে হাঙ্গেরি। ইউক্রেনকে দেওয়া প্রস্তাবিত ৯০ বিলিয়ন ইউরোর জরুরি ঋণ ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ—দুটিই একযোগে আটকে দিয়েছে দেশটি। তেল সরবরাহ নিয়ে চলমান বিরোধের জেরেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছে বুদাপেস্ট।

তেল সরবরাহ নিয়ে বিরোধের জট

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সোভিয়েত আমলের দ্রুজবা পাইপলাইন, যার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল যায় হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়াতে। গত জানুয়ারির শেষ দিক থেকে পাইপলাইনটি অচল হয়ে আছে।

ইউক্রেন দাবি করছে, রাশিয়ার হামলায় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মস্কো সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুদাপেস্টও কিয়েভের অবস্থান মানেনি; বরং তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তেল আটকে রাখা হচ্ছে।

EU rebukes Hungary, Slovakia after vetoes on Ukraine loan and Russia  sanctions - English Section

বুদাপেস্টের কড়া বার্তা

ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর পিটার সিজিয়ার্তো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইউক্রেন কোনোভাবেই হাঙ্গেরিকে চাপ দিতে পারবে না এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে দেওয়া হবে না। তিনি এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে দৃঢ় ‘না’ জানান।

অন্যদিকে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেন, এই সিদ্ধান্ত জোটের জন্য বড় ধাক্কা এবং এমন বার্তা তারা দিতে চাননি।

ঋণ প্যাকেজ ও আগের সমঝোতা

গত ডিসেম্বরে ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ পরিকল্পনায় নীতিগত সমঝোতা হয়েছিল। তখন চেক প্রজাতন্ত্রসহ কয়েকটি দেশ আর্থিক অবদান থেকে অব্যাহতি পেয়েছিল। তবু শেষ মুহূর্তে এসে হাঙ্গেরির ভেটো পুরো উদ্যোগকেই অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল।

Robert Fico becomes Slovakia's new PM

পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি

তেল সরবরাহ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া আগে থেকেই চাপ বাড়াচ্ছিল। দুই দেশই জানিয়েছে, পাইপলাইন সচল না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনে ডিজেল রপ্তানি স্থগিত থাকবে।

এরই মধ্যে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো সতর্ক করেছেন, তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হলে জরুরি বিদ্যুৎ সহায়তাও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তার ভাষ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ স্থিতিশীল রাখতে স্লোভাকিয়া বড় ধরনের সহায়তা দিয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

পর্যবেক্ষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এই টানাপোড়েন ইউরোপীয় ঐক্যের জন্য নতুন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণ ও নিষেধাজ্ঞা—দুই ক্ষেত্রেই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে ইউক্রেনকে সহায়তার কৌশল নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার ‘দেশে ফেরার’ বক্তব্য নিয়ে যা বলছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি

ইইউ ঋণ আটকে দিল হাঙ্গেরি, তেল সংকটে ইউক্রেন নিয়ে উত্তেজনা চরমে

০৪:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন অচলাবস্থা তৈরি করেছে হাঙ্গেরি। ইউক্রেনকে দেওয়া প্রস্তাবিত ৯০ বিলিয়ন ইউরোর জরুরি ঋণ ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ—দুটিই একযোগে আটকে দিয়েছে দেশটি। তেল সরবরাহ নিয়ে চলমান বিরোধের জেরেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছে বুদাপেস্ট।

তেল সরবরাহ নিয়ে বিরোধের জট

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সোভিয়েত আমলের দ্রুজবা পাইপলাইন, যার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল যায় হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়াতে। গত জানুয়ারির শেষ দিক থেকে পাইপলাইনটি অচল হয়ে আছে।

ইউক্রেন দাবি করছে, রাশিয়ার হামলায় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মস্কো সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুদাপেস্টও কিয়েভের অবস্থান মানেনি; বরং তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তেল আটকে রাখা হচ্ছে।

EU rebukes Hungary, Slovakia after vetoes on Ukraine loan and Russia  sanctions - English Section

বুদাপেস্টের কড়া বার্তা

ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর পিটার সিজিয়ার্তো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইউক্রেন কোনোভাবেই হাঙ্গেরিকে চাপ দিতে পারবে না এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে দেওয়া হবে না। তিনি এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে দৃঢ় ‘না’ জানান।

অন্যদিকে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেন, এই সিদ্ধান্ত জোটের জন্য বড় ধাক্কা এবং এমন বার্তা তারা দিতে চাননি।

ঋণ প্যাকেজ ও আগের সমঝোতা

গত ডিসেম্বরে ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ পরিকল্পনায় নীতিগত সমঝোতা হয়েছিল। তখন চেক প্রজাতন্ত্রসহ কয়েকটি দেশ আর্থিক অবদান থেকে অব্যাহতি পেয়েছিল। তবু শেষ মুহূর্তে এসে হাঙ্গেরির ভেটো পুরো উদ্যোগকেই অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল।

Robert Fico becomes Slovakia's new PM

পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি

তেল সরবরাহ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া আগে থেকেই চাপ বাড়াচ্ছিল। দুই দেশই জানিয়েছে, পাইপলাইন সচল না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনে ডিজেল রপ্তানি স্থগিত থাকবে।

এরই মধ্যে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো সতর্ক করেছেন, তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হলে জরুরি বিদ্যুৎ সহায়তাও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তার ভাষ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ স্থিতিশীল রাখতে স্লোভাকিয়া বড় ধরনের সহায়তা দিয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

পর্যবেক্ষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এই টানাপোড়েন ইউরোপীয় ঐক্যের জন্য নতুন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণ ও নিষেধাজ্ঞা—দুই ক্ষেত্রেই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে ইউক্রেনকে সহায়তার কৌশল নতুন করে ভাবতে হতে পারে।