আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর রাষ্ট্রীয় ভাষণ শুধুমাত্র এক সাধারণ বক্তৃতা নয়, এটি রেপাবলিকানদের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে চলেছে। ২০২৫ সালের ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “আমেরিকা ফিরে এসেছে।” এবার প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্প কি আবার ঘরে-ঘরে মানুষের সমস্যার দিকে মন দেবেন, নাকি ইতিহাসে নিজের নাম লেখানোর চেষ্টা করবেন?
কঠিন চ্যালেঞ্জে ট্রাম্পের প্রশাসন
রাষ্ট্রপতির বর্তমান অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি তাঁর কঠোর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল করে দিয়েছেন, যা ট্রাম্পের মূল অর্থনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তার হাতিয়ার ছিল। এছাড়া, অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রবল সংঘর্ষের কারণে প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। সংসদের রেপাবলিকান সদস্যরা এদিকে সতর্ক হয়ে দেখছেন ট্রাম্প কেমন বার্তা দিচ্ছেন। অনেকের চোখে এটি ট্রাম্পের চিন্তাভাবনার লড়াই।

অর্থনীতিতে জয় নাকি সহানুভূতি
ট্রাম্প প্রায়ই অর্থনীতিকে সর্বকালের সেরা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্টক মার্কেটের উন্নতি, চাকরির প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির হ্রাস তিনি উদাহরণ হিসাবে দেখিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষ, বিশেষত মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী, খাদ্য, আবাসন ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক জিনিসের দাম বাড়ার কারণে উদ্বিগ্ন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষ “খরচের চিন্তায়” গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় রেপাবলিকানদের প্রত্যাশা ট্রাম্পের কাছ থেকে “আমি আপনার কষ্ট বুঝি” ধরনের সহানুভূতিশীল বার্তা।
বৈদেশিক নীতিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বনাম শান্তির নোবেল
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারকালে “আমেরিকা ফার্স্ট” বার্তা দিতেন, কিন্তু সরকারি দায়িত্বে এসে বিশ্বব্যাপী সংঘাতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি আটটি যুদ্ধ সমাধান করেছেন এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সেনা নৌবাহিনী মোতায়েন করেছেন এবং জেনেভায় ইউক্রেন ও ইরান সম্পর্কিত আলোচনা করেছেন। সমালোচকরা মনে করছেন, এই বৈশ্বিক ব্যস্ততা সাধারণ মানুষের কাছের দৈনন্দিন সমস্যাকে পিছনে ফেলেছে।

ভাষণ কি হবে পরিচালিত, নাকি মুক্ত?
ট্রাম্প প্রায়শই স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী চলেন না। ২০২৫ সালের ভাষণে তিনি এক ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। ফায়ারফাইটারদের প্রশংসা করেছেন, ‘ওয়াকেনেস’কে সমালোচনা করেছেন এবং অর্থনৈতিক দোষ জো বাইডেনের ওপর চাপিয়েছেন। এবারও কি তিনি “সাশ্রয়িতা” বা সাধারণ মানুষের খরচের বিষয়টি স্বীকার করবেন? তা দেখার অপেক্ষা।
রিপাবলিকান এবং সাধারণ জনগণ উভয়েই রাষ্ট্রীয় ভাষণে ট্রাম্পের বার্তা এবং মনোভাবের দিকে নজর রাখবেন, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















