০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় লন্ডনের নদী বাঁচাতে ‘সুপার সিউয়ার’: শতবর্ষ পুরোনো সংকটের আধুনিক সমাধান এনবিআরের ‘হয়রানি’ অভিযোগে অটোখাতে সংকটের শঙ্কা, যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামোর দাবি বারভিডার সাতক্ষীরার উন্নয়নে ১৬ দফা দাবি: ঢাকায় যুবকদের মানববন্ধনে জোরালো বার্তা ধানমন্ডিতে ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু ৬১% আমেরিকানের চোখে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে আইবিএমের ঝড়: ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কি বদলে দেবে সবকিছু? মস্তিষ্কের সংকেতেই চলবে প্রযুক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নতুন আশার নাম ‘সিঙ্ক্রন’ মেট গালার থিমে শরীরের ভাষা: পাঁচ নারী শিল্পীর দৃষ্টিতে নতুন শিল্পভাবনা ইউটিউবে নতুন সুবিধা: ফ্রি ব্যবহারকারীরাও এবার ভিডিও দেখবেন ছোট ভাসমান পর্দায়

স্বৈরশাসন পতনের ৪০ বছর পরও রাজনৈতিক বংশের ছায়ায় ফিলিপাইন

স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়রের পতনের চার দশক পরও ফিলিপাইন আজ রাজনৈতিক বংশতন্ত্রের শক্ত শিকড়ে আটকে আছে। ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ‘ইডিএসএ পিপল পাওয়ার’ দেশটিকে স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্ত করলেও, দুর্নীতি ও বৈষম্যের মতো পুরনো সমস্যাগুলো এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। বরং ক্ষমতার কেন্দ্রে আবারও প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জাগরণ

অ্যাক্টিভিস্ট টেডি ক্যাসিনো তখন মাত্র ১৭ বছরের তরুণ। ১৯৮৬ সালে প্রায় ২০ লাখ ফিলিপিনো রাজধানী মেট্রো ম্যানিলার প্রধান সড়ক এপিফানিও দে লস সান্তোস অ্যাভিনিউ বা ইডিএসএ-তে জড়ো হয়ে স্বৈরশাসক মার্কোস সিনিয়রের পতন ঘটান। তবে তার রাজনৈতিক সচেতনতার সূচনা হয় তিন বছর আগে।

১৯৮৩ সালে বিরোধী নেতা ও সাবেক সিনেটর বেনিগনো “নিনয়” অ্যাকুইনো জুনিয়রকে ম্যানিলার বিমানবন্দরের রানওয়েতে হত্যা করা হলে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মার্কোসের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত অ্যাকুইনোর এই হত্যাকাণ্ড তরুণ ক্যাসিনোর মনে গভীর নাড়া দেয়। তার বাবা তাকে রাজধানীতে আয়োজিত বিক্ষোভে নিয়ে যান। সেখান থেকেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ শুরু।

ক্যাসিনোর ভাষায়, সেটিই ছিল তার গঠনমূলক সময়। তিনি দেখেছিলেন, মানুষ নিজেদের স্বার্থের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর কোনো আদর্শের জন্য লড়াই করছে।

Anger at hero's burial for Philippines dictator Marcos - BBC News

মার্কোস শাসনের অন্ধকার অধ্যায়

ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়র প্রায় ২০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সামরিক আইন জারি ছিল। এই সময়জুড়ে ব্যাপক দুর্নীতি, সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সমালোচকদের হত্যা, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ ওঠে।

১৯৮৬ সালের শান্তিপূর্ণ গণঅভ্যুত্থান সেই শাসনের অবসান ঘটায়। পরবর্তী সময়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, নাগরিক স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং গণতান্ত্রিক পরিসর পুনরুদ্ধার হয়।

তবু কেন অসন্তোষ রয়ে গেছে

টেডি ক্যাসিনো মনে করেন, ইডিএসএর বার্ষিকী কেবল স্মৃতিচারণের উপলক্ষ হওয়া উচিত নয়। তার মতে, পরবর্তী সরকারগুলো ‘পিপল পাওয়ার’-এর চেতনা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্নীতি ও দারিদ্র্যের মতো সমস্যাগুলো সেই ব্যর্থতার ফল।

ম্যানিলার ডে লা স্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ শাও চুয়া বলেন, বিপ্লবকে ব্যর্থ বলা ঠিক নয়। গণতান্ত্রিক রূপান্তর অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কিছু নেতা বিপ্লবের চেতনাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। বিতর্কিত নীতি গ্রহণ কিংবা বৈষম্য কমাতে ব্যর্থতা মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে।

১৯৮৭ সালের সংবিধানে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের একসঙ্গে ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হলেও, এ সংক্রান্ত কার্যকর আইন আজও পাস হয়নি। কারণ আইনপ্রণেতাদের অনেকেই নিজেরাই রাজনৈতিক বংশের সদস্য।

৪০তম বার্ষিকীতে নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ

২৫ ফেব্রুয়ারির বার্ষিকীতে হাজারো মানুষ আবারও ইডিএসএ-তে জড়ো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন জেন জি ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের তরুণরা, যারা ১৯৮৬ সালে জন্মই নেয়নি।

২১ বছর বয়সী দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ক্লারেন্স লিন্ডো বলেন, তরুণদের ক্ষোভের যথেষ্ট কারণ আছে। তার মতে, সামরিক শাসনের সময়কার দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, স্বজনপ্রীতি ও পুঁজিবাদী বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে। তাই নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ যৌক্তিক।

বার্ষিকীর আবহে আবারও সামনে এসেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ, যেখানে আইনপ্রণেতা, ঠিকাদার ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার কথা উঠেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবির সঙ্গে এই ক্ষোভ মিলেমিশে গেছে।

ক্ষমতার শীর্ষে দুই প্রভাবশালী পরিবার

বর্তমানে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তে—উভয়েই দেশের শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি। মার্কোস জুনিয়র হলেন সাবেক স্বৈরশাসকের পুত্র, আর সারা দুতের্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের কন্যা।

Duterte, democracy, and defense | Brookings

রদ্রিগো দুতের্তে ক্ষমতায় থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট বজায় রেখেও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তার ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-এ হাজারো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সারা দুতের্তের সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দুতের্তেকে ঠেকাতে উদারপন্থী শক্তিরা মার্কোস জুনিয়রের প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিতে পারে। তবে ইতিহাসবিদ শাও চুয়া সতর্ক করে বলেন, কেবল ‘কম ক্ষতিকর’ ভাবনায় জোট গঠন বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে যখন সামরিক শাসনের নৃশংসতার স্বীকৃতি এখনো স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়নি।

পিপল পাওয়ারের আসল শিক্ষা

টেডি ক্যাসিনোর মতে, পিপল পাওয়ারের প্রকৃত শিক্ষা কেবল ঐক্যের আবেগ নয়, বরং মতভেদের মধ্যেও সংলাপ গড়ে তোলা। মার্কোস সিনিয়রের সময়ও বিরোধী শিবিরে বিভাজন ছিল। কিন্তু স্বৈরতন্ত্র ভাঙার লক্ষ্য স্পষ্ট থাকায় মানুষ এক হয়েছিল।

আজও সেই স্মৃতি নতুন করে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—কোন কোন ইস্যু ও কর্মসূচিতে ঐক্য সম্ভব, এবং কীভাবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যায়। চার দশক পরও ইডিএসএর চেতনা তাই ফিলিপাইনকে আত্মসমালোচনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়

স্বৈরশাসন পতনের ৪০ বছর পরও রাজনৈতিক বংশের ছায়ায় ফিলিপাইন

০৩:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়রের পতনের চার দশক পরও ফিলিপাইন আজ রাজনৈতিক বংশতন্ত্রের শক্ত শিকড়ে আটকে আছে। ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ‘ইডিএসএ পিপল পাওয়ার’ দেশটিকে স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্ত করলেও, দুর্নীতি ও বৈষম্যের মতো পুরনো সমস্যাগুলো এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। বরং ক্ষমতার কেন্দ্রে আবারও প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জাগরণ

অ্যাক্টিভিস্ট টেডি ক্যাসিনো তখন মাত্র ১৭ বছরের তরুণ। ১৯৮৬ সালে প্রায় ২০ লাখ ফিলিপিনো রাজধানী মেট্রো ম্যানিলার প্রধান সড়ক এপিফানিও দে লস সান্তোস অ্যাভিনিউ বা ইডিএসএ-তে জড়ো হয়ে স্বৈরশাসক মার্কোস সিনিয়রের পতন ঘটান। তবে তার রাজনৈতিক সচেতনতার সূচনা হয় তিন বছর আগে।

১৯৮৩ সালে বিরোধী নেতা ও সাবেক সিনেটর বেনিগনো “নিনয়” অ্যাকুইনো জুনিয়রকে ম্যানিলার বিমানবন্দরের রানওয়েতে হত্যা করা হলে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মার্কোসের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত অ্যাকুইনোর এই হত্যাকাণ্ড তরুণ ক্যাসিনোর মনে গভীর নাড়া দেয়। তার বাবা তাকে রাজধানীতে আয়োজিত বিক্ষোভে নিয়ে যান। সেখান থেকেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ শুরু।

ক্যাসিনোর ভাষায়, সেটিই ছিল তার গঠনমূলক সময়। তিনি দেখেছিলেন, মানুষ নিজেদের স্বার্থের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর কোনো আদর্শের জন্য লড়াই করছে।

Anger at hero's burial for Philippines dictator Marcos - BBC News

মার্কোস শাসনের অন্ধকার অধ্যায়

ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়র প্রায় ২০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সামরিক আইন জারি ছিল। এই সময়জুড়ে ব্যাপক দুর্নীতি, সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সমালোচকদের হত্যা, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ ওঠে।

১৯৮৬ সালের শান্তিপূর্ণ গণঅভ্যুত্থান সেই শাসনের অবসান ঘটায়। পরবর্তী সময়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, নাগরিক স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং গণতান্ত্রিক পরিসর পুনরুদ্ধার হয়।

তবু কেন অসন্তোষ রয়ে গেছে

টেডি ক্যাসিনো মনে করেন, ইডিএসএর বার্ষিকী কেবল স্মৃতিচারণের উপলক্ষ হওয়া উচিত নয়। তার মতে, পরবর্তী সরকারগুলো ‘পিপল পাওয়ার’-এর চেতনা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্নীতি ও দারিদ্র্যের মতো সমস্যাগুলো সেই ব্যর্থতার ফল।

ম্যানিলার ডে লা স্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ শাও চুয়া বলেন, বিপ্লবকে ব্যর্থ বলা ঠিক নয়। গণতান্ত্রিক রূপান্তর অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কিছু নেতা বিপ্লবের চেতনাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। বিতর্কিত নীতি গ্রহণ কিংবা বৈষম্য কমাতে ব্যর্থতা মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে।

১৯৮৭ সালের সংবিধানে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের একসঙ্গে ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হলেও, এ সংক্রান্ত কার্যকর আইন আজও পাস হয়নি। কারণ আইনপ্রণেতাদের অনেকেই নিজেরাই রাজনৈতিক বংশের সদস্য।

৪০তম বার্ষিকীতে নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ

২৫ ফেব্রুয়ারির বার্ষিকীতে হাজারো মানুষ আবারও ইডিএসএ-তে জড়ো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন জেন জি ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের তরুণরা, যারা ১৯৮৬ সালে জন্মই নেয়নি।

২১ বছর বয়সী দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ক্লারেন্স লিন্ডো বলেন, তরুণদের ক্ষোভের যথেষ্ট কারণ আছে। তার মতে, সামরিক শাসনের সময়কার দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, স্বজনপ্রীতি ও পুঁজিবাদী বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে। তাই নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ যৌক্তিক।

বার্ষিকীর আবহে আবারও সামনে এসেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ, যেখানে আইনপ্রণেতা, ঠিকাদার ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার কথা উঠেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবির সঙ্গে এই ক্ষোভ মিলেমিশে গেছে।

ক্ষমতার শীর্ষে দুই প্রভাবশালী পরিবার

বর্তমানে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তে—উভয়েই দেশের শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি। মার্কোস জুনিয়র হলেন সাবেক স্বৈরশাসকের পুত্র, আর সারা দুতের্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের কন্যা।

Duterte, democracy, and defense | Brookings

রদ্রিগো দুতের্তে ক্ষমতায় থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট বজায় রেখেও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তার ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-এ হাজারো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সারা দুতের্তের সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দুতের্তেকে ঠেকাতে উদারপন্থী শক্তিরা মার্কোস জুনিয়রের প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিতে পারে। তবে ইতিহাসবিদ শাও চুয়া সতর্ক করে বলেন, কেবল ‘কম ক্ষতিকর’ ভাবনায় জোট গঠন বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে যখন সামরিক শাসনের নৃশংসতার স্বীকৃতি এখনো স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়নি।

পিপল পাওয়ারের আসল শিক্ষা

টেডি ক্যাসিনোর মতে, পিপল পাওয়ারের প্রকৃত শিক্ষা কেবল ঐক্যের আবেগ নয়, বরং মতভেদের মধ্যেও সংলাপ গড়ে তোলা। মার্কোস সিনিয়রের সময়ও বিরোধী শিবিরে বিভাজন ছিল। কিন্তু স্বৈরতন্ত্র ভাঙার লক্ষ্য স্পষ্ট থাকায় মানুষ এক হয়েছিল।

আজও সেই স্মৃতি নতুন করে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—কোন কোন ইস্যু ও কর্মসূচিতে ঐক্য সম্ভব, এবং কীভাবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যায়। চার দশক পরও ইডিএসএর চেতনা তাই ফিলিপাইনকে আত্মসমালোচনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।