জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশি তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের দৌড়ে নতুন মোড় এসেছে। প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এখন এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা আরও গতি পেয়েছে।
প্রার্থী ঘোষণা ও নতুন সমীকরণ
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্যালেস্টাইনের সরে দাঁড়ানোর পর বাংলাদেশ সরাসরি সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এর আগে বাংলাদেশই প্রথম এ পদে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল।

নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া
জাতিসংঘের কার্যপ্রণালী বিধির নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদ কক্ষে একাশি তম অধিবেশনের সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক রোটেশন প্রথা অনুসারে এবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
আলোচনা ও আনুষ্ঠানিকতা
আশি তম অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক ২০২৬ সালের মে মাসে প্রার্থীদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিক সংলাপ আয়োজন করবেন। এ সংলাপের মাধ্যমেই প্রার্থীরা নিজেদের অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সামনে।

বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা
বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে এ মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে। সে সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী একচল্লিশ তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। চার দশক পর আবারও সেই অবস্থান ফিরে পেতে সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ঢাকা।
উল্লেখ্য, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে বর্তমান মনোনয়নের মাধ্যমে নতুন করে কৌশল সাজানো হয়েছে।
একাশি তম অধিবেশন শুরু হবে ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এবং উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। এখন সবার নজর ২ জুনের নির্বাচনের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক আসনের ভবিষ্যৎ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















