জুলাই-আগস্টের সহিংস আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের মামলায় কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়ে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে এ জামিন আদেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্রেপ্তার ও মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে র্যাব আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই–আগস্টে আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে তিনি জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত সংস্থা জানায়, ওই সময়ের সহিংসতায় কয়েকজন নিহত ও আহত হন। সেই প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জামিন আবেদন করেন।
রাজনৈতিক পরিচিতি ও অতীত
আবদুর রহমান বদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ উখিয়া-টেকনাফ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তবে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পরিবর্তে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি দুই দফাতেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ
হাইকোর্টের এ জামিন আদেশের ফলে আপাতত মুক্ত থাকলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার বিচারিক অগ্রগতি এখন জনমনে গভীর আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। বদির জামিন সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন মাত্রা যোগ করল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















