ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ও এর ওপর জমা হওয়া সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক ছিল তাঁর নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ ঋণমওকুফ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা ক্ষুদ্র পরিসরে চাষাবাদ, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও অন্যান্য কৃষিকাজে যুক্ত, তারা এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
কোন কোন ঋণ অন্তর্ভুক্ত
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফসল উৎপাদন, মাছ চাষ, গবাদিপশু পালনসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে নেওয়া সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং তার ওপর জমা সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। অর্থাৎ মূল টাকা ও সুদ—দুই-ই এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ স্কিমের আওতায় পড়া মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ, সুদসহ, প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এসব ঋণ বিতরণ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

উপকৃত হবেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে সারা দেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। নীতিনির্ধারকদের মতে, বাড়তে থাকা ঋণচাপ থেকে দুর্বল গ্রামীণ ঋণগ্রহীতাদের স্বস্তি দিতে এবং দেশের কৃষিখাতকে শক্তিশালী রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ভিত্তি কৃষিখাত। সেই খাতকে টিকিয়ে রাখতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের পুনরায় উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকারের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















