মার্কিন প্রশাসনে বড় ধাক্কা খেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা Anthropic। প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো ধাপে ধাপে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করবে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সংস্থাটিকে ‘সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই সিদ্ধান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তীব্র আলোড়ন তুলেছে।

ছয় মাসে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার
রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিরক্ষা দপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি সরিয়ে ফেলতে হবে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের বক্তব্য, রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সংস্থাটি সহযোগিতা না করলে কঠোর প্রশাসনিক ও দণ্ডবিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সরকারের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের চুক্তি কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
নীতিগত শর্তে অচলাবস্থা
প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান Pete Hegseth জানিয়েছেন, সামরিক কার্যক্রমে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আরোপিত নীতিগত সীমা গ্রহণযোগ্য নয়। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী Dario Amodei অস্ত্র ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাপক গণনজরদারির সীমা চেয়েছিলেন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের অবস্থান, দেশের নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণ করবে আইন ও সরকার, কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের তকমা দেওয়া হলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হবে।

নতুন চুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান
এই অচলাবস্থার মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান OpenAI প্রতিরক্ষা দপ্তরের শ্রেণিবদ্ধ নেটওয়ার্কে প্রযুক্তি সরবরাহের চুক্তি করেছে। সংস্থার প্রধান নির্বাহী Sam Altman জানিয়েছেন, মানবিক দায়বদ্ধতা ও ব্যাপক গণনজরদারি না করার নীতিকে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সামরিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নতুন ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/INV_SamAltman_GettyImages-2153474303-85e8dafc100b40f586c3ef573ee59b00.jpg)
চীনা প্রতিষ্ঠানের পূর্ব নজির
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি ঘোষণা করা কার্যত কঠোর নিষেধাজ্ঞার সমতুল্য। অতীতে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Huawei–এর ক্ষেত্রেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এবার অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অবস্থান নেওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।

যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিতর্ক
সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতে স্বয়ংক্রিয় ও আধা-স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্রব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাড়া আধুনিক প্রতিরক্ষা কৌশল কল্পনা করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করল।
বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যানথ্রপিককে সরকারি ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে দিলে তাদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরবরাহে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















