০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট কান মঞ্চে শাড়ির নতুন রূপ: আলিয়া ভাটের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকে ঝড় যখন আকাশ মেঘলা  হরমুজের লড়াই: জ্বালানি পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাত চীনা গাড়ির সামনে আমেরিকার দেয়াল কতদিন টিকবে আল-কায়েদার ছায়া কি আবার বিশ্বকে তাড়া করছে? লেবার পার্টির পুরোনো জোট ভেঙে গেছে, স্টারমার একা এর সমাধান নন স্টারমারের নেতৃত্বে চাপে ব্রিটিশ লেবার পার্টি, ভাঙনের আশঙ্কায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আফ্রিকার একাধিক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ PM তারেক রহমানের হুঁশিয়ারি: মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় স্নাতক হয়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার

পাক- আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের পাশে থাকবে আমেরিকা

ওয়াশিংটন থেকে স্পষ্ট বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারে সমর্থন জানাল মার্কিন প্রশাসন। একই সময়ে ইসলামাবাদ বলছে, দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি এখন কার্যত উন্মুক্ত যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। সীমান্তজুড়ে গোলাগুলি ও পাল্টা হামলায় প্রাণহানির খবর মিলছে দুই পক্ষ থেকেই।

Image

সীমান্তে গোলাগুলি, চামানে উত্তেজনা

পাকিস্তানের চামান সীমান্তে ফ্রেন্ডশিপ গেট এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার জেরে বৃহস্পতিবার সীমান্তজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু হয়। দুই পক্ষই ভারী ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ পরিস্থিতিকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, নিজেদের নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় এড়াতেই ইসলামাবাদ এ ধরনের অভিযোগ তুলছে।

Image

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তালেবানকে তারা বৈশ্বিকভাবে ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে সীমান্তে প্রাণহানিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন কূটনীতিক অ্যালিসন হুকার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদার। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি হলেও তালেবান গেরিলা কৌশলে অভিজ্ঞ।

Image

পুরনো ক্ষোভ, নতুন বিস্ফোরণ

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছাড়ার পর তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও জঙ্গি আশ্রয়ের অভিযোগ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, আফগান ভূখণ্ডকে কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। তালেবান তাদের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। সীমান্ত সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তবে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Image

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট

পাক- আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের পাশে থাকবে আমেরিকা

০১:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ওয়াশিংটন থেকে স্পষ্ট বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারে সমর্থন জানাল মার্কিন প্রশাসন। একই সময়ে ইসলামাবাদ বলছে, দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি এখন কার্যত উন্মুক্ত যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। সীমান্তজুড়ে গোলাগুলি ও পাল্টা হামলায় প্রাণহানির খবর মিলছে দুই পক্ষ থেকেই।

Image

সীমান্তে গোলাগুলি, চামানে উত্তেজনা

পাকিস্তানের চামান সীমান্তে ফ্রেন্ডশিপ গেট এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার জেরে বৃহস্পতিবার সীমান্তজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু হয়। দুই পক্ষই ভারী ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ পরিস্থিতিকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, নিজেদের নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় এড়াতেই ইসলামাবাদ এ ধরনের অভিযোগ তুলছে।

Image

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তালেবানকে তারা বৈশ্বিকভাবে ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে সীমান্তে প্রাণহানিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন কূটনীতিক অ্যালিসন হুকার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদার। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি হলেও তালেবান গেরিলা কৌশলে অভিজ্ঞ।

Image

পুরনো ক্ষোভ, নতুন বিস্ফোরণ

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছাড়ার পর তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও জঙ্গি আশ্রয়ের অভিযোগ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, আফগান ভূখণ্ডকে কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। তালেবান তাদের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। সীমান্ত সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তবে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Image