চিলির বন্দরনগরী ভ্যালপারাইসোতে নোঙর করা চীনের চিকিৎসা জাহাজ ‘সিল্ক রোড আর্ক’কে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দেয়নি চিলি সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজনীয় স্থানীয় অনুমোদন ও স্বীকৃতি না থাকায় জাহাজের ভেতরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন চীনের সঙ্গে চিলির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ছে।
ভ্যালপারাইসোতে ‘সিল্ক রোড আর্ক’
চীনের চিকিৎসা জাহাজ ‘সিল্ক রোড আর্ক’ প্রায় এক ডজন দেশের সফরে রয়েছে। গত বুধবার এটি চিলির ভ্যালপারাইসো উপকূলে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের শেষদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি আবেদন করা হয়েছিল, যাতে জাহাজটি স্থানীয় নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা দিতে পারে। কিন্তু আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সেই অনুমতি নাকচ করে দেয়।

স্বাস্থ্য বিধির যুক্তি
চিলির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত ও নিবন্ধিত হতে হয়। জাহাজে পরিচালিত চিকিৎসা কার্যক্রম সেই মানদণ্ড পূরণ করছে না বলেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, জাহাজের নিজস্ব সুবিধার ভেতরে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা চালানো দেশের বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মার্কিন চাপ ও সমুদ্রতল কেবল প্রকল্প
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্ব পাচ্ছে। চিলি ও হংকংকে যুক্ত করে সমুদ্রতল কেবল নির্মাণের একটি প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, চীনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এ প্রকল্প আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিন চিলীয় কর্মকর্তার ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবের্তো ভান ক্লাভেরেন বলেছেন, কেবল প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ যে সান্তিয়াগোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।

চিলির ভারসাম্য কূটনীতি
চিলি দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পরাশক্তির সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। কিন্তু অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ ও কৌশলগত প্রকল্পগুলোকে ঘিরে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় সান্তিয়াগোকে এখন আরও সতর্ক অবস্থান নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা জাহাজকে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই সেই সতর্ক কূটনৈতিক ভারসাম্যের অংশ হিসেবে দেখছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















