০৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে তা হবে ভয়াবহ ফাঁদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের আহ্বান চীনের খনিজ দখল ভাঙতে দৌড়াচ্ছে আমেরিকা: নিরাপত্তা না বাজার—কোন পথে ওয়াশিংটন? ভারতের জয়পুরের প্রাচীরঘেরা শহর কি বাঁচবে? রমজানে রোজা রাখলে দেহে শুরু হয় ‘কোষভোজ’ প্রক্রিয়া, নোবেলজয়ী জাপানি বিজ্ঞানীর চমকপ্রদ আবিষ্কার নাৎসি হত্যাযজ্ঞে নথি সংস্কারকদের গোপন ভূমিকা, নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন সময় কি রাশিয়ার পক্ষে নয়?  জলাভূমির মিথেন বিস্ফোরণ, তেল-গ্যাসকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে উষ্ণায়নের নীরব হুমকি গুস্তাভো দুদামেলের বিদায়: লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কে নতুন সিম্ফনির শুরু ইরান যুদ্ধের অজুহাতে ভাঙা যুক্তি? ট্রাম্পের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু দাবি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

সৌদি ঘাঁটিতে হঠাৎ উড়োজাহাজ বৃদ্ধি, ইরান উত্তেজনায় নতুন বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন নতুন করে তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে উপগ্রহ চিত্রে। ফেব্রুয়ারির চার দিনের ব্যবধানে সেখানে দৃশ্যমান উড়োজাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা অঞ্চলজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

উপগ্রহ চিত্রে কী দেখা গেল

ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখের চিত্রে যেখানে ২৭টি উড়োজাহাজ দেখা গিয়েছিল, ২১ ফেব্রুয়ারির উচ্চ রেজল্যুশনের ছবিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় অন্তত ৪৩টিতে। চার দিনের ব্যবধানে এমন বৃদ্ধি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারির ছবিতে সংখ্যা কিছুটা কমে ৩৮টিতে নেমে আসে।

প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি বহু বছর ধরে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সাম্প্রতিক ছবিতে সেখানে বড় আকারের বহু সহায়ক সামরিক উড়োজাহাজ দেখা গেছে।

Satellite images show more aircraft at Saudi airbase used by US forces |  Reuters

কোন ধরনের উড়োজাহাজ মোতায়েন

২১ ফেব্রুয়ারির ছবিতে অন্তত ১৩টি বোয়িং কেসি–১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার এবং ৬টি বোয়িং ই–৩ সেন্ট্রি নজরদারি উড়োজাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো আকাশে জ্বালানি সরবরাহ ও দূরপাল্লার নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়। মোট ২৯টি বড় ডানাযুক্ত সামরিক উড়োজাহাজ ঘাঁটিতে সারিবদ্ধ অবস্থায় ছিল।

১৭ ফেব্রুয়ারির আগের ছবিতে এমন বড় আকারের উড়োজাহাজের সংখ্যা ছিল মাত্র ১১টি। জানুয়ারির চিত্রের সঙ্গে তুলনা করলেও পুরো অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম ও উড়োজাহাজ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

এই সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির পটভূমিতে রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান উত্তেজনা। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান জানিয়েছে, আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে এবং আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

Trump sees 'maximum' 15 days for Iran to make deal

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা দেন। অন্যদিকে সৌদি আরব আগেই তেহরানকে জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।

পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অঞ্চলজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি

সাম্প্রতিক আরও কিছু উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের হামলার শিকার বলে ধারণা করা কিছু সংবেদনশীল স্থাপনা ইরান পুনর্গঠন ও সুরক্ষা জোরদার করছে। ফলে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

 

সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে তা হবে ভয়াবহ ফাঁদ

সৌদি ঘাঁটিতে হঠাৎ উড়োজাহাজ বৃদ্ধি, ইরান উত্তেজনায় নতুন বার্তা

০৩:৪৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন নতুন করে তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে উপগ্রহ চিত্রে। ফেব্রুয়ারির চার দিনের ব্যবধানে সেখানে দৃশ্যমান উড়োজাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা অঞ্চলজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

উপগ্রহ চিত্রে কী দেখা গেল

ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখের চিত্রে যেখানে ২৭টি উড়োজাহাজ দেখা গিয়েছিল, ২১ ফেব্রুয়ারির উচ্চ রেজল্যুশনের ছবিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় অন্তত ৪৩টিতে। চার দিনের ব্যবধানে এমন বৃদ্ধি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারির ছবিতে সংখ্যা কিছুটা কমে ৩৮টিতে নেমে আসে।

প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি বহু বছর ধরে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সাম্প্রতিক ছবিতে সেখানে বড় আকারের বহু সহায়ক সামরিক উড়োজাহাজ দেখা গেছে।

Satellite images show more aircraft at Saudi airbase used by US forces |  Reuters

কোন ধরনের উড়োজাহাজ মোতায়েন

২১ ফেব্রুয়ারির ছবিতে অন্তত ১৩টি বোয়িং কেসি–১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার এবং ৬টি বোয়িং ই–৩ সেন্ট্রি নজরদারি উড়োজাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো আকাশে জ্বালানি সরবরাহ ও দূরপাল্লার নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়। মোট ২৯টি বড় ডানাযুক্ত সামরিক উড়োজাহাজ ঘাঁটিতে সারিবদ্ধ অবস্থায় ছিল।

১৭ ফেব্রুয়ারির আগের ছবিতে এমন বড় আকারের উড়োজাহাজের সংখ্যা ছিল মাত্র ১১টি। জানুয়ারির চিত্রের সঙ্গে তুলনা করলেও পুরো অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম ও উড়োজাহাজ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

এই সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির পটভূমিতে রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান উত্তেজনা। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান জানিয়েছে, আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে এবং আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

Trump sees 'maximum' 15 days for Iran to make deal

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা দেন। অন্যদিকে সৌদি আরব আগেই তেহরানকে জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।

পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অঞ্চলজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি

সাম্প্রতিক আরও কিছু উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের হামলার শিকার বলে ধারণা করা কিছু সংবেদনশীল স্থাপনা ইরান পুনর্গঠন ও সুরক্ষা জোরদার করছে। ফলে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।