মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন নতুন করে তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে উপগ্রহ চিত্রে। ফেব্রুয়ারির চার দিনের ব্যবধানে সেখানে দৃশ্যমান উড়োজাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা অঞ্চলজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
উপগ্রহ চিত্রে কী দেখা গেল
ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখের চিত্রে যেখানে ২৭টি উড়োজাহাজ দেখা গিয়েছিল, ২১ ফেব্রুয়ারির উচ্চ রেজল্যুশনের ছবিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় অন্তত ৪৩টিতে। চার দিনের ব্যবধানে এমন বৃদ্ধি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারির ছবিতে সংখ্যা কিছুটা কমে ৩৮টিতে নেমে আসে।
প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি বহু বছর ধরে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সাম্প্রতিক ছবিতে সেখানে বড় আকারের বহু সহায়ক সামরিক উড়োজাহাজ দেখা গেছে।

কোন ধরনের উড়োজাহাজ মোতায়েন
২১ ফেব্রুয়ারির ছবিতে অন্তত ১৩টি বোয়িং কেসি–১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার এবং ৬টি বোয়িং ই–৩ সেন্ট্রি নজরদারি উড়োজাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো আকাশে জ্বালানি সরবরাহ ও দূরপাল্লার নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়। মোট ২৯টি বড় ডানাযুক্ত সামরিক উড়োজাহাজ ঘাঁটিতে সারিবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
১৭ ফেব্রুয়ারির আগের ছবিতে এমন বড় আকারের উড়োজাহাজের সংখ্যা ছিল মাত্র ১১টি। জানুয়ারির চিত্রের সঙ্গে তুলনা করলেও পুরো অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম ও উড়োজাহাজ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক টানাপোড়েন
এই সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির পটভূমিতে রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান উত্তেজনা। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান জানিয়েছে, আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে এবং আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা দেন। অন্যদিকে সৌদি আরব আগেই তেহরানকে জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অঞ্চলজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি
সাম্প্রতিক আরও কিছু উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের হামলার শিকার বলে ধারণা করা কিছু সংবেদনশীল স্থাপনা ইরান পুনর্গঠন ও সুরক্ষা জোরদার করছে। ফলে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















