ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ইসরায়েল একে ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ বলে ঘোষণা করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি ‘বড় যুদ্ধ অভিযান’ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে তেহরানে একের পর এক বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার খবর মিলছে। পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে।
তেহরানে বিস্ফোরণ, আকাশপথ বন্ধ
তেহরানে বিস্ফোরণের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষকে দৌড়ে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। হামলার পরপরই ইরানের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ইসরায়েল, লেবানন, ওমান, দুবাইসহ আশপাশের অঞ্চলে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এতে গোটা অঞ্চলে যাত্রী চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

‘অস্তিত্বগত হুমকি’ সরাতে অভিযান: নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দেশটির জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’। তিনি জানান, এই যৌথ অভিযান ইরানের জনগণের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দেন, ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্পের বার্তা, কূটনীতির আশা ভঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, অভিযান শেষ হলে ইরানের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও সর্বশেষ হামলা সেই সম্ভাবনাকে ভেঙে দিয়েছে। জুনে ১২ দিনের বিমানযুদ্ধের পর এটি নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল।

ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, প্রথম দফায় ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং শত্রু লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা প্রতিরোধ চালানো হচ্ছে।
রাশিয়ার কড়া সমালোচনা
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি চলছিল। তার মন্তব্যে বোঝা যায়, মস্কো এই সংঘাতকে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছে।
লেবাননের সতর্ক বার্তা

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম সতর্ক করে বলেছেন, কেউ যেন দেশকে এমন অভিযানে না টানে যা জাতীয় নিরাপত্তা ও ঐক্যকে হুমকির মুখে ফেলে। তার এই মন্তব্য হিজবুল্লাহর প্রতি পরোক্ষ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল আগেই জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহ জড়ালে লেবাননের বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
গোটা অঞ্চলে বহুমাত্রিক উত্তেজনা
মার্কিন দূতাবাস কাতারে নাগরিকদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলেছে। জেরুজালেমেও মার্কিন কর্মীদের আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানবিরোধী অভিযান একাধিক দিন ধরে চলতে পারে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চাইলে ভবিষ্যতে দূরপাল্লার সক্ষমতা বাড়াতে পারে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার সক্ষমতার দাবি নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
এই হামলার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কূটনীতির পথ সংকুচিত হয়ে সামরিক সংঘর্ষই এখন মূল বাস্তবতা হয়ে উঠছে।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















