মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠেছে। শনিবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়। হামলার পরপরই তেহরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি দ্রুত রণক্ষেত্রে রূপ নিচ্ছে, আর কূটনৈতিক সমাধানের আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।
যৌথ অভিযানের সূচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বলেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি ছিল। তাঁর ভাষায়, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মসূচি চালাচ্ছে যা আমেরিকার জন্য সরাসরি হুমকি। তিনি সতর্ক করেন, বোমা বর্ষণ একাধিক দিন ধরে চলতে পারে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। স্থল ও সমুদ্রপথে একযোগে আঘাত হানা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান। তবে হামলার পূর্ণ পরিসর এখনও স্পষ্ট নয়।
পরমাণু আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রেক্ষাপট
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ওয়াশিংটন চাইছিল, ইরান শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধই নয়, তাদের পরমাণু অবকাঠামোও ভেঙে ফেলুক। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপরও কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানানো হয়।
তেহরান জানায়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পরমাণু কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে প্রস্তুত, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে না। এই অচলাবস্থার মধ্যেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কঠোর প্রতিশোধের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে এবং আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই হামলা ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আগাম পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, ইরানের জনগণের জন্য এটি নতুন ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করবে।
আঞ্চলিক অস্থিরতার আশঙ্কা
এই হামলার আগে গত জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের বিমানযুদ্ধ হয়েছিল। সেই সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়। এবারকার হামলা সেই সংঘাতেরই বিস্তার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরান সতর্ক করেছে, তাদের ওপর আঘাত হানলে অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলো নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।
রমজান মাসের মধ্যে এই হামলা নতুন করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে ইহুদি উৎসব পুরিমও সামনে, যা ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন পারস্যে ইহুদিদের রক্ষার স্মৃতি বহন করে।
সংঘাতের ভবিষ্যৎ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকদিন ধরে চলতে পারে এই সামরিক অভিযান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আরও নড়বড়ে হবে। আন্তর্জাতিক বাজার, তেল সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
এখন প্রশ্ন একটাই, এই সংঘাত কি সীমিত পর্যায়েই থাকবে, নাকি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















