কলম্বিয়ার সীমান্তঘেঁষা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পাম্পিং স্টেশন পাহারা দিচ্ছিল সেনারা। বছরের পর বছর ধরে দুই শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী সেখানে হামলা চালিয়ে জ্বালানি লুট করে আসছে। আগে স্নাইপার আর অতর্কিত হামলার জন্য প্রস্তুত থাকত সেনারা। এখন তাদের সামনে নতুন আতঙ্ক—ছোট আকারের ড্রোনের ঝাঁক, যেগুলো অনলাইনে সহজেই কেনা যায় এবং সামান্য পরিবর্তনেই গ্রেনেড বহন করতে পারে।
পনেরো দিনে এমন পঞ্চাশটি ড্রোন গুলি করে নামাতে পেরেছিল সেনারা। কিন্তু ষোড়শ দিনে বড় আকারের একটি ড্রোন হঠাৎ আকাশে ভেসে ওঠে। এতে চারটি গ্রেনেড বাঁধা ছিল। সময়মতো শনাক্ত করা যায়নি। বিস্ফোরণে এক সেনা নিহত হন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এ ধরনের হামলা এখন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
সহজলভ্য ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের চেহারা
দীর্ঘ দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতে নতুন মোড় এনেছে স্বল্পমূল্যের ড্রোন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো বাজারে সহজে পাওয়া বাণিজ্যিক ড্রোন কিনে তাতে বিস্ফোরক যুক্ত করছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, এ প্রবণতা সরকারকে রীতিমতো রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কাতাতুম্বো অঞ্চল এখন সবচেয়ে তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানে সক্রিয় রয়েছে জাতীয় মুক্তি বাহিনী বা ইএলএন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন হামলায় কয়েক ডজন সেনা ও পুলিশ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের স্বীকারোক্তি, ‘আকাশে সুবিধা পাচ্ছে মাদকচক্র’
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এক ভাষণে বলেন, মাদকচক্র এখন আকাশে কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে। তারা নগদ অর্থে হাজার হাজার ড্রোন কিনতে পারছে, অথচ সরকার প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম জোগাড়ে ধীরগতি দেখাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কিছু ড্রোন দেশেই কেনা হচ্ছে, আবার অনেক ড্রোন ভেনেজুয়েলা সীমান্ত পেরিয়ে চোরাপথে ঢুকছে। ঘন বনাঞ্চল আর দীর্ঘ অরক্ষিত সীমান্তের কারণে এই প্রবাহ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিরোধে নজিরবিহীন ব্যয় পরিকল্পনা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্বীকার করেছেন, অপরাধী গোষ্ঠীগুলো নির্বিচারে ড্রোন ব্যবহার করছে। সরকার ইতোমধ্যে ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি কিনতে বিপুল অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। রাডার, সংকেত জ্যামারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব ব্যবস্থা পুরোপুরি মোতায়েন করা সম্ভব নাও হতে পারে।
আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো ফাইবার অপটিক ড্রোন। এসব ড্রোন রেডিও সংকেতের বদলে অতিসূক্ষ্ম তার ব্যবহার করে, ফলে প্রচলিত জ্যামিং প্রযুক্তি দিয়ে এগুলো থামানো যায় না। বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রযুক্তি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
আতঙ্কে দিন কাটছে সীমান্তের সেনাদের
কাউকা অঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, শুধু একটি পৌর এলাকায় গত বছর এক হাজারের বেশি ড্রোন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো মূলত গোয়েন্দা নজরদারিতে ব্যবহৃত হয়েছে। ছোট, দ্রুতগতির এসব ড্রোন কখন গ্রেনেড ফেলবে, তা বোঝা যায় না।
সেনাদের মধ্যে তাই নতুন সতর্কবার্তা চালু হয়েছে। আকাশে ড্রোন দেখা গেলেই চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বাজে, আর বাইরে থাকা সবাই আশ্রয়ে ছুটে যায়। কারণ তারা জানে, যে কোনো মুহূর্তে ওপর থেকে নেমে আসতে পারে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ।
Sarakhon Report 



















