সতেরো বছরের এক আবেগঘন অধ্যায়ের ইতি টানতে চলেছেন বিশ্বখ্যাত সংগীত পরিচালক গুস্তাভো দুদামেল। লস অ্যাঞ্জেলেসের মঞ্চ ছেড়ে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন নিউইয়র্ক ফিলহারমনিক-এর সংগীত ও শৈল্পিক পরিচালকের। এক শিল্পীর ব্যক্তিগত যাত্রা যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি দুই শহরের সাংস্কৃতিক মানচিত্রেও শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়।
দুই শহর, এক সুরের সেতুবন্ধন
সম্প্রতি নিউইয়র্কের রেডিও সিটি মিউজিক হল-এ দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান দুদামেলকে। ব্রডওয়ের কিংবদন্তি বার্নাডেট পিটার্স মঞ্চে যোগ দিলে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। নিউইয়র্কের সুরকারদের সৃষ্টিতে ভর করে সেই সন্ধ্যায় নতুন সাউন্ড ব্যবস্থার আত্মপ্রকাশ ঘটে।
অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে তাঁর দীর্ঘদিনের সংগীতঘর ওয়াল্ট ডিজনি কনসার্ট হল-এ তিনি হাজির হন আরেক ভিন্ন আবহে। সেখানে তাঁর সঙ্গী ছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানশেট। বিথোভেনের সংগীত আর নাট্যরূপ মিলিয়ে উপস্থাপিত হয় এক বিশেষ আয়োজন।
সতেরো বছরের সম্পর্কের শেষ অধ্যায়
২০০৯ সাল থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস ফিলহারমনিক-এর নেতৃত্বে ছিলেন দুদামেল। তাঁর আগেও এই অর্কেস্ট্রা পরিচালনা করেছেন জুবিন মেহতা ও এসা-পেক্কা সালোনেন-এর মতো খ্যাতিমান শিল্পীরা। এবার দুদামেলের উত্তরসূরি খোঁজার দায়িত্বও সামলাচ্ছেন সালোনেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে দুদামেল শুধু একজন শিল্পী নন, ছিলেন এক সাংস্কৃতিক প্রতীক। শহরের রাস্তায় এখনো ঝুলছে ‘গ্রাসিয়াস গুস্তাভো’ লেখা ব্যানার। কনসার্ট হলে তাঁর শেষ মৌসুম ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস আরও তীব্র। জুনে ডিজনি হলে তাঁর শেষ পরিবেশনা, আর আগস্টে হলিউড বাউলে বিথোভেনের নবম সিম্ফনি পরিচালনার মাধ্যমে শেষ হবে তাঁর আনুষ্ঠানিক অধ্যায়।

নিউইয়র্কে নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষা
১৮৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী নিউইয়র্ক ফিলহারমনিক বহুদিন পর এমন এক উচ্চপ্রোফাইল সংগীত পরিচালক পাচ্ছে, যার নাম বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অর্কেস্ট্রার নেতৃত্বে থাকা ম্যাতিয়াস তারনোপলস্কি জানিয়েছেন, দুদামেল চান সংগীতের পাশাপাশি শহরের সাংস্কৃতিক ও নাগরিক জীবনে অর্কেস্ট্রাকে আরও সক্রিয় করতে।
আগামী মৌসুমে শহরজুড়ে একাধিক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ক্লাসিক সংগীতের পাশাপাশি লাতিন ও বহুসাংস্কৃতিক ধারার সঙ্গেও মেলবন্ধনের ইঙ্গিত মিলছে। দুদামেল নিজেও জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের দর্শক, তাদের রুচি ও মেজাজ বোঝার জন্য তিনি সময় নিতে চান। তাঁর ভাষায়, এই শহরের গতি অনেক দ্রুত, অনেক প্রাণবন্ত।
আবেগ, প্রত্যাশা ও অনিশ্চয়তা
লস অ্যাঞ্জেলেসের জন্য এই বিদায় যেমন বেদনাময়, তেমনি নিউইয়র্কের জন্য তা উৎসবের। দুদামেল নিজেও স্বীকার করেছেন, তিনি যেন একই সময়ে দুই জলের স্রোতে ভাসছেন। একদিকে বিদায়ের আয়োজন, অন্যদিকে নতুন স্বপ্নের প্রস্তুতি।
তবে শহরদ্বয়ের সংগীতপ্রেমীরা জানেন, এই পরিবর্তন শুধু একজন পরিচালকের বদল নয়। এটি দুই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। কেউ হয়তো তাঁর মতো হবেন না, কিন্তু দুদামেলের রেখে যাওয়া সুর ও স্মৃতি দীর্ঘদিন অনুরণিত হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















