০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা এই সংঘাতের প্রধান খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় এশিয়া জুড়ে উদ্বেগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান সংকট তীব্র, ট্রাম্প বললেন শাসন বদলের সুযোগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ফ্লাইট স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান কাঁপছে, লক্ষ্য শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, আবুধাবিতে নিহত ১ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে আতঙ্ক ও পালানোর হিড়িক পাকিস্তান-আফগান তালেবান সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার পাকিস্তানের আফগান হামলা ‘খোলা যুদ্ধ’কে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ দিতে পারে

মিনেসোটায় রমজান ভিন্ন আবহে, অভিযানের ভয়ে ঘরেই ইবাদতে সোমালি মুসলিমরা

মিনেসোটার ঘনিষ্ঠ সোমালি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে রমজান মানেই ছিল মসজিদমুখী ব্যস্ততা, ইফতারের দাওয়াত আর পারস্পরিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল ছবি। কিন্তু চলতি বছর সেই চিত্র বদলে গেছে। অভিবাসন সংস্থার অভিযানের আতঙ্কে অনেকেই ঘরেই নামাজ ও ইবাদতে সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিযানের ছায়ায় রমজান

মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পলের বিস্তৃত এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি মানুষের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মকর্তারা অনেকটাই এলাকা ছেড়েছেন, তবুও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি।

ব্লুমিংটনের দার আল-ফারুক ইসলামিক সেন্টারের এক নেতা জানান, আগের বছরের মতো প্রাণচাঞ্চল্য এবার নেই। রমজানের আমেজে যেন চাপা দুশ্চিন্তার ছায়া পড়েছে। অনেক পরিবার অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ঈদ ও রমজান সামনে রেখে আপাতত ঘরেই ইবাদত করাই নিরাপদ।

Deqa Farah, looking off camera, wearing a head covering in burgundy, a black and white patterned jacket over a black top with a pearl necklace.

মসজিদে নিরাপত্তা বাড়তি সতর্কতা

যারা মসজিদে যাচ্ছেন, তাদের জন্য নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনি অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না—এমন বার্তাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব বলছে, প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকেরা নামাজের সময় পাহারায় থাকবেন।

সম্প্রদায়ের সংগঠকেরা জানান, অভিযানের সময় বহু স্বেচ্ছাসেবক মসজিদের আশপাশে নজরদারিতে ছিলেন। রমজানে সেই তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। তাঁদের ভাষায়, এটি শুধু নিরাপত্তা নয়, একাত্মতার প্রতীক।

অর্থনৈতিক ধাক্কায় বিপর্যস্ত পরিবার

অভিযানের প্রভাব শুধু ধর্মীয় আচারেই নয়, পড়েছে অর্থনীতিতেও। অনেক ছোট ব্যবসায়ীর ক্রেতা কমে গেছে। কিছু কর্মী ভয়ে কাজে আসেননি, ফলে ছাঁটাইও করতে হয়েছে। সোমালি খাবারের রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলো, যেগুলো সাধারণত রমজানে সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে, সেগুলোর বিক্রি এবার অনিশ্চিত।

A view of a city street where snow is on the ground and most trees are bare except one with orange leaves. Several tall buildings appear in the distance.

ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার এক ইমাম বলেন, এই পরিস্থিতিতে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে, কেউ কেউ আটক কেন্দ্রে, কেউ আবার দেশছাড়া। তবুও সম্প্রদায় ভেঙে পড়েনি।

দান ও সহায়তায় নতুন উদ্যোগ

রমজান দানের মাস। তাই ভয়ের মধ্যেও থেমে নেই সহায়তার উদ্যোগ। ভাড়া সহায়তা ও হালাল খাবার সরবরাহ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। আগে যেখানে সপ্তাহে প্রায় তিনশ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হতো, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হাজার ছুঁয়েছে। খেজুরসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহে নতুন করে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে রোজাদারদের ইফতার নিয়ে দুশ্চিন্তা না থাকে।

ভয় নয়, স্থিতিশীলতার বার্তা

সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, কিছু পরিচিত মুখ হয়তো এবার মসজিদে নেই। কেউ আটক, কেউ নির্বাসিত। তবুও ইবাদত বন্ধ হবে না। তাঁদের বার্তা, ভয়ের মধ্যেও বিশ্বাস অটুট থাকবে।

মিনেসোটার সোমালি মুসলিমদের কাছে এবারের রমজান তাই শুধু সংযমের নয়, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সংহতির পরীক্ষাও।

Abdulahi Farah, wearing a patterned hat and beige clothing, looks at the camera.

 

Imam Yusuf Abdulle, wearing a brown hat and a gray jacket with a zipper, looks off camera.

 

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা এই সংঘাতের প্রধান খেলোয়াড়

মিনেসোটায় রমজান ভিন্ন আবহে, অভিযানের ভয়ে ঘরেই ইবাদতে সোমালি মুসলিমরা

০৬:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিনেসোটার ঘনিষ্ঠ সোমালি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে রমজান মানেই ছিল মসজিদমুখী ব্যস্ততা, ইফতারের দাওয়াত আর পারস্পরিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল ছবি। কিন্তু চলতি বছর সেই চিত্র বদলে গেছে। অভিবাসন সংস্থার অভিযানের আতঙ্কে অনেকেই ঘরেই নামাজ ও ইবাদতে সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিযানের ছায়ায় রমজান

মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পলের বিস্তৃত এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি মানুষের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মকর্তারা অনেকটাই এলাকা ছেড়েছেন, তবুও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি।

ব্লুমিংটনের দার আল-ফারুক ইসলামিক সেন্টারের এক নেতা জানান, আগের বছরের মতো প্রাণচাঞ্চল্য এবার নেই। রমজানের আমেজে যেন চাপা দুশ্চিন্তার ছায়া পড়েছে। অনেক পরিবার অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ঈদ ও রমজান সামনে রেখে আপাতত ঘরেই ইবাদত করাই নিরাপদ।

Deqa Farah, looking off camera, wearing a head covering in burgundy, a black and white patterned jacket over a black top with a pearl necklace.

মসজিদে নিরাপত্তা বাড়তি সতর্কতা

যারা মসজিদে যাচ্ছেন, তাদের জন্য নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনি অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না—এমন বার্তাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব বলছে, প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকেরা নামাজের সময় পাহারায় থাকবেন।

সম্প্রদায়ের সংগঠকেরা জানান, অভিযানের সময় বহু স্বেচ্ছাসেবক মসজিদের আশপাশে নজরদারিতে ছিলেন। রমজানে সেই তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। তাঁদের ভাষায়, এটি শুধু নিরাপত্তা নয়, একাত্মতার প্রতীক।

অর্থনৈতিক ধাক্কায় বিপর্যস্ত পরিবার

অভিযানের প্রভাব শুধু ধর্মীয় আচারেই নয়, পড়েছে অর্থনীতিতেও। অনেক ছোট ব্যবসায়ীর ক্রেতা কমে গেছে। কিছু কর্মী ভয়ে কাজে আসেননি, ফলে ছাঁটাইও করতে হয়েছে। সোমালি খাবারের রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলো, যেগুলো সাধারণত রমজানে সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে, সেগুলোর বিক্রি এবার অনিশ্চিত।

A view of a city street where snow is on the ground and most trees are bare except one with orange leaves. Several tall buildings appear in the distance.

ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার এক ইমাম বলেন, এই পরিস্থিতিতে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে, কেউ কেউ আটক কেন্দ্রে, কেউ আবার দেশছাড়া। তবুও সম্প্রদায় ভেঙে পড়েনি।

দান ও সহায়তায় নতুন উদ্যোগ

রমজান দানের মাস। তাই ভয়ের মধ্যেও থেমে নেই সহায়তার উদ্যোগ। ভাড়া সহায়তা ও হালাল খাবার সরবরাহ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। আগে যেখানে সপ্তাহে প্রায় তিনশ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হতো, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হাজার ছুঁয়েছে। খেজুরসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহে নতুন করে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে রোজাদারদের ইফতার নিয়ে দুশ্চিন্তা না থাকে।

ভয় নয়, স্থিতিশীলতার বার্তা

সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, কিছু পরিচিত মুখ হয়তো এবার মসজিদে নেই। কেউ আটক, কেউ নির্বাসিত। তবুও ইবাদত বন্ধ হবে না। তাঁদের বার্তা, ভয়ের মধ্যেও বিশ্বাস অটুট থাকবে।

মিনেসোটার সোমালি মুসলিমদের কাছে এবারের রমজান তাই শুধু সংযমের নয়, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সংহতির পরীক্ষাও।

Abdulahi Farah, wearing a patterned hat and beige clothing, looks at the camera.

 

Imam Yusuf Abdulle, wearing a brown hat and a gray jacket with a zipper, looks off camera.