০৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ধর্মনিরপেক্ষতা নয়: মালয়েশিয়া–ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি প্রভাবের উত্থান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা এই সংঘাতের প্রধান খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় এশিয়া জুড়ে উদ্বেগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান সংকট তীব্র, ট্রাম্প বললেন শাসন বদলের সুযোগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ফ্লাইট স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান কাঁপছে, লক্ষ্য শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, আবুধাবিতে নিহত ১ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে আতঙ্ক ও পালানোর হিড়িক পাকিস্তান-আফগান তালেবান সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

পাকিস্তান-আফগান তালেবান সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ টানা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। রাতভর গোলাগুলির পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জোরালো হয়েছে।

গভীর অনুপ্রবেশ ও সামরিক হামলা

পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার তাদের বাহিনী কাবুল ও কান্দাহারসহ একাধিক স্থানে তালেবানের সামরিক স্থাপনা ও চৌকিতে হামলা চালায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগান ভূখণ্ডে এটি পাকিস্তানের অন্যতম গভীর অনুপ্রবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান জঙ্গিদের তালেবান আশ্রয় দিচ্ছে এবং তারা পাকিস্তানের ভেতরে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পাকিস্তান দাবি করেছে, সীমান্তপারের হামলার জবাব হিসেবেই তাদের এ পদক্ষেপ। অন্যদিকে কাবুল এটিকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে বলেছে, তারা সংলাপে আগ্রহী, তবে সংঘাত বিস্তৃত হলে এর গুরুতর পরিণতি হবে।

২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম সীমান্তজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে

শুক্রবার রাত থেকেই কূটনৈতিক তৎপরতা গতি পায়। আফগানিস্তান জানায়, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সৌদি আরবের প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক যোগাযোগ খোলা রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানায়। রাশিয়া সংঘর্ষ থামিয়ে আলোচনায় ফেরার পরামর্শ দিয়েছে। চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক উত্তেজনায় ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে আগ্রাসী হিসেবে দেখছে না। নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলামাবাদের ওপর চাপ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং পরিস্থিতি যেন আরও না বাড়ে সে আশা ব্যক্ত করেন।

Pakistan, Afghan Taliban forces clash as diplomatic efforts intensify |  Reuters

সীমান্তে লড়াই অব্যাহত

রাতভর সীমান্তজুড়ে গোলাগুলি অব্যাহত ছিল। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ‘গজব লিল হক’ নামে একটি অভিযান চলছে এবং বিভিন্ন সেক্টরে তালেবানের একাধিক পোস্ট ও শিবির ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উভয় পক্ষই ভারী ক্ষয়ক্ষতির কথা বলেছে, কিন্তু নিহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের দাবি, তাদের ১২ সেনা নিহত এবং ২৭৪ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তালেবানের বক্তব্য, তাদের ১৩ যোদ্ধা ও পাকিস্তানের ৫৫ সেনা নিহত হয়েছে।

তালেবানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেন, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে ১৯ বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছে। এ দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

কঠোর ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।” তিনি এ সংঘর্ষকে “খোলা যুদ্ধ” আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যৎ হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি খোস্ত প্রদেশে এক বক্তব্যে বলেন, এই সংঘাত “খুব ব্যয়বহুল” হবে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে যেসব বাহিনী লড়াইয়ে নিয়োজিত আছে তাদের বাইরে বড় আকারে নতুন করে মোতায়েন করা হয়নি।

হাক্কানি আরও বলেন, তালেবান প্রযুক্তির জোরে নয়, বরং ঐক্য, সংহতি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অতীতে বিশ্বশক্তিকে পরাস্ত করেছে।

সামরিক সক্ষমতার পার্থক্য

সামরিক শক্তির দিক থেকে পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। দেশটির রয়েছে কয়েক লাখ সদস্যের স্থায়ী সেনাবাহিনী ও আধুনিক বিমানবাহিনী। বিপরীতে তালেবানের কোনো প্রচলিত বিমানবাহিনী নেই; তারা মূলত হালকা অস্ত্র ও স্থলবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল।

তবে দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে তালেবান যুদ্ধঅভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছে এবং ২০২১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে।

সংঘাতের এই বিস্তার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা সত্ত্বেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ধর্মনিরপেক্ষতা নয়: মালয়েশিয়া–ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি প্রভাবের উত্থান

পাকিস্তান-আফগান তালেবান সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

০৭:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ টানা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। রাতভর গোলাগুলির পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জোরালো হয়েছে।

গভীর অনুপ্রবেশ ও সামরিক হামলা

পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার তাদের বাহিনী কাবুল ও কান্দাহারসহ একাধিক স্থানে তালেবানের সামরিক স্থাপনা ও চৌকিতে হামলা চালায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগান ভূখণ্ডে এটি পাকিস্তানের অন্যতম গভীর অনুপ্রবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান জঙ্গিদের তালেবান আশ্রয় দিচ্ছে এবং তারা পাকিস্তানের ভেতরে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পাকিস্তান দাবি করেছে, সীমান্তপারের হামলার জবাব হিসেবেই তাদের এ পদক্ষেপ। অন্যদিকে কাবুল এটিকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে বলেছে, তারা সংলাপে আগ্রহী, তবে সংঘাত বিস্তৃত হলে এর গুরুতর পরিণতি হবে।

২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম সীমান্তজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে

শুক্রবার রাত থেকেই কূটনৈতিক তৎপরতা গতি পায়। আফগানিস্তান জানায়, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সৌদি আরবের প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক যোগাযোগ খোলা রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানায়। রাশিয়া সংঘর্ষ থামিয়ে আলোচনায় ফেরার পরামর্শ দিয়েছে। চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক উত্তেজনায় ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে আগ্রাসী হিসেবে দেখছে না। নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলামাবাদের ওপর চাপ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং পরিস্থিতি যেন আরও না বাড়ে সে আশা ব্যক্ত করেন।

Pakistan, Afghan Taliban forces clash as diplomatic efforts intensify |  Reuters

সীমান্তে লড়াই অব্যাহত

রাতভর সীমান্তজুড়ে গোলাগুলি অব্যাহত ছিল। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ‘গজব লিল হক’ নামে একটি অভিযান চলছে এবং বিভিন্ন সেক্টরে তালেবানের একাধিক পোস্ট ও শিবির ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উভয় পক্ষই ভারী ক্ষয়ক্ষতির কথা বলেছে, কিন্তু নিহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের দাবি, তাদের ১২ সেনা নিহত এবং ২৭৪ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তালেবানের বক্তব্য, তাদের ১৩ যোদ্ধা ও পাকিস্তানের ৫৫ সেনা নিহত হয়েছে।

তালেবানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেন, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে ১৯ বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছে। এ দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

কঠোর ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।” তিনি এ সংঘর্ষকে “খোলা যুদ্ধ” আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যৎ হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি খোস্ত প্রদেশে এক বক্তব্যে বলেন, এই সংঘাত “খুব ব্যয়বহুল” হবে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে যেসব বাহিনী লড়াইয়ে নিয়োজিত আছে তাদের বাইরে বড় আকারে নতুন করে মোতায়েন করা হয়নি।

হাক্কানি আরও বলেন, তালেবান প্রযুক্তির জোরে নয়, বরং ঐক্য, সংহতি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অতীতে বিশ্বশক্তিকে পরাস্ত করেছে।

সামরিক সক্ষমতার পার্থক্য

সামরিক শক্তির দিক থেকে পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। দেশটির রয়েছে কয়েক লাখ সদস্যের স্থায়ী সেনাবাহিনী ও আধুনিক বিমানবাহিনী। বিপরীতে তালেবানের কোনো প্রচলিত বিমানবাহিনী নেই; তারা মূলত হালকা অস্ত্র ও স্থলবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল।

তবে দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে তালেবান যুদ্ধঅভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছে এবং ২০২১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে।

সংঘাতের এই বিস্তার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা সত্ত্বেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়ে গেছে।