০৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ধর্মনিরপেক্ষতা নয়: মালয়েশিয়া–ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি প্রভাবের উত্থান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা এই সংঘাতের প্রধান খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় এশিয়া জুড়ে উদ্বেগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান সংকট তীব্র, ট্রাম্প বললেন শাসন বদলের সুযোগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ফ্লাইট স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান কাঁপছে, লক্ষ্য শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, আবুধাবিতে নিহত ১ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে আতঙ্ক ও পালানোর হিড়িক পাকিস্তান-আফগান তালেবান সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান কাঁপছে, লক্ষ্য শীর্ষ নেতৃত্ব

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাতের সূচনা হয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর একযোগে সামরিক হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকি দূর করবে এবং ইরানের জনগণকে তাদের শাসকদের অপসারণের সুযোগ করে দেবে।

হামলার জবাবে তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় কয়েকটি তেলসমৃদ্ধ আরব দেশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এসব দেশ জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তেহরান আগেই সতর্ক করেছিল, তাদের ওপর হামলা হলে পুরো অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ ও প্রাথমিক লক্ষ্য

পেন্টাগন এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে “অপারেশন এপিক ফিউরি”। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের হামলায় মূলত ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে হামলার ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। এর আগে একটি সূত্র জানায়, খামেনিকে তেহরান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরানের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ ইরানে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪০ জন নিহত হয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পারমাণবিক ইস্যুতে কূটনৈতিক আশা ক্ষীণ

এই নতুন সংঘাতের ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, অঞ্চলে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ তাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। তারা বলেছে, শত্রুকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত পাল্টা হামলা চলবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, আত্মরক্ষায় তেহরান তার সব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দেশটির বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইতেও বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। আবুধাবির ইয়াস দ্বীপের আকাশে যুদ্ধবিমান চক্কর দিতে দেখা যায়।

বাহরাইন জানায়, মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সার্ভিস সেন্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে উপকূলের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায় এবং সাইরেন বেজে ওঠে।

কাতার জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। রাজধানী দোহায়ও সাইরেন শোনা যায়।

ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপ দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে রপ্তানি হয়।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তেজনা না কমলে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। জ্বালানি বাজারে ঝুঁকি প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও ১৯৭৯ সালের প্রসঙ্গ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৯৭৯ সালের তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের কথা উল্লেখ করেন। সে সময় ৫২ জন মার্কিন নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলার অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প ইরানের জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বোমা সর্বত্র পড়বে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই অভিযান শেষ হলে ইরানের জনগণ তাদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই যৌথ হামলা ইরানের জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ করে দেবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রতিরোধমূলক আঘাত বলে উল্লেখ করেন।

তেহরানে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা

তেহরানে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানুষ ব্যাংকে ভিড় করে নগদ অর্থ তুলছেন। বিভিন্ন শহরে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে, যা বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করবে।

তেহরানের ৫৪ বছর বয়সী এক গৃহিণী বলেন, “আমরা এই শাসনব্যবস্থা ও ইসরায়েলের মধ্যে আটকা পড়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষই।”

অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

পারমাণবিক আলোচনায় তেহরানকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আগেই অঞ্চলে বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই এই ব্যাপক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও ইরান জানায়, তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে প্রস্তুত, তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করতে রাজি নয়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক মাস ধরেই এই অভিযান পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ইসরায়েলে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল ও অধিকাংশ কর্মস্থল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, আকাশসীমা বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ধর্মনিরপেক্ষতা নয়: মালয়েশিয়া–ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি প্রভাবের উত্থান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান কাঁপছে, লক্ষ্য শীর্ষ নেতৃত্ব

০৭:১৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাতের সূচনা হয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর একযোগে সামরিক হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকি দূর করবে এবং ইরানের জনগণকে তাদের শাসকদের অপসারণের সুযোগ করে দেবে।

হামলার জবাবে তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় কয়েকটি তেলসমৃদ্ধ আরব দেশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এসব দেশ জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তেহরান আগেই সতর্ক করেছিল, তাদের ওপর হামলা হলে পুরো অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ ও প্রাথমিক লক্ষ্য

পেন্টাগন এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে “অপারেশন এপিক ফিউরি”। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের হামলায় মূলত ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে হামলার ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। এর আগে একটি সূত্র জানায়, খামেনিকে তেহরান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরানের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ ইরানে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪০ জন নিহত হয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পারমাণবিক ইস্যুতে কূটনৈতিক আশা ক্ষীণ

এই নতুন সংঘাতের ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, অঞ্চলে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ তাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। তারা বলেছে, শত্রুকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত পাল্টা হামলা চলবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, আত্মরক্ষায় তেহরান তার সব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দেশটির বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইতেও বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। আবুধাবির ইয়াস দ্বীপের আকাশে যুদ্ধবিমান চক্কর দিতে দেখা যায়।

বাহরাইন জানায়, মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সার্ভিস সেন্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে উপকূলের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায় এবং সাইরেন বেজে ওঠে।

কাতার জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। রাজধানী দোহায়ও সাইরেন শোনা যায়।

ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপ দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে রপ্তানি হয়।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তেজনা না কমলে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। জ্বালানি বাজারে ঝুঁকি প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও ১৯৭৯ সালের প্রসঙ্গ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৯৭৯ সালের তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের কথা উল্লেখ করেন। সে সময় ৫২ জন মার্কিন নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলার অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প ইরানের জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বোমা সর্বত্র পড়বে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই অভিযান শেষ হলে ইরানের জনগণ তাদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই যৌথ হামলা ইরানের জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ করে দেবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রতিরোধমূলক আঘাত বলে উল্লেখ করেন।

তেহরানে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা

তেহরানে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানুষ ব্যাংকে ভিড় করে নগদ অর্থ তুলছেন। বিভিন্ন শহরে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে, যা বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করবে।

তেহরানের ৫৪ বছর বয়সী এক গৃহিণী বলেন, “আমরা এই শাসনব্যবস্থা ও ইসরায়েলের মধ্যে আটকা পড়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষই।”

অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

পারমাণবিক আলোচনায় তেহরানকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আগেই অঞ্চলে বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই এই ব্যাপক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও ইরান জানায়, তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে প্রস্তুত, তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করতে রাজি নয়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক মাস ধরেই এই অভিযান পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ইসরায়েলে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল ও অধিকাংশ কর্মস্থল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, আকাশসীমা বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।