মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানজুড়ে বিস্ফোরণ, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং আকাশপথ বন্ধের ঘটনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানে ‘ভারী ও নির্ভুল’ বোমাবর্ষণ চলবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে তেহরান এই দাবি অস্বীকার করে একে ‘মানসিক যুদ্ধ’ বলেছে।
খামেনির মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তেহরানে খামেনির আবাসিক কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে একাধিক বোমা ফেলা হয়। কিছু গণমাধ্যমে তার মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে বলেও দাবি ওঠে। কিন্তু ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্পষ্ট জানায়, ট্রাম্পের বক্তব্য ভিত্তিহীন। খামেনির দপ্তর থেকেও জানানো হয়, শত্রুপক্ষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের ভেতরে নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। তবে বিপ্লবী গার্ডের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর সামনে আসায় ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সমন্বিত হামলা
ইসরায়েল জানিয়েছে, মাসের পর মাস পরিকল্পনার পর এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। মার্কিন প্রশাসনও স্বীকার করেছে, এই অভিযানে তাদের সরাসরি সমর্থন ছিল।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অভিযান থামবে না। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বেশিরভাগই এখন আর সক্রিয় নেই।
উপসাগরজুড়ে পাল্টা হামলা ও আতঙ্ক
হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েলের দিকে দেড় শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাইরেন বেজে ওঠে। কিছু স্থানে হতাহত ও অবকাঠামো ক্ষতির তথ্য মিলেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন দেশ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ফলে হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পারমাণবিক উদ্বেগ
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা জরুরি বৈঠক ডেকেছে। এখন পর্যন্ত পারমাণবিক স্থাপনায় তেজস্ক্রিয় ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। ইউরোপীয় নেতারাও পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দূতাবাসগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা
পরিস্থিতি দ্রুত বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা বাড়ছে। ইরান বলছে, তারা ‘অভূতপূর্ব জবাব’ দেবে। অন্যদিকে ইসরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সামনের দিনগুলোতে আরও হাজারো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবার সরাসরি বড় শক্তিগুলোর মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বিমান চলাচল এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধাক্কার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















