ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। শনিবার গভীর রাতে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের পর এ ঘোষণা আসে। খামেনির মৃত্যুর খবরে পুরো দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বহু মানুষ রাজধানী ছাড়ার চেষ্টা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আবেগঘন ঘোষণা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে এক সংবাদ উপস্থাপক অশ্রুসজল কণ্ঠে খামেনির মৃত্যুর ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে তাকে ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র রক্ষার পথে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা টানা ৩৬ বছর দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতায় ছিলেন। তার নেতৃত্বেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কৌশল জোরদার করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রভাব বিস্তার করে।

ট্রাম্পের ঘোষণা ও কঠিন বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর বলেন, এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ ফিরে পাওয়ার “সবচেয়ে বড় সুযোগ”। তিনি তেহরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেন।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল আকাশ হামলার মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো কঠিন। স্থলবাহিনী ছাড়া এমন লক্ষ্য অর্জনের নজির খুব কম। ফলে এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের জন্য বড় কূটনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় আকারের হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানে বলে খবর পাওয়া গেছে।
তেহরানে বিস্ফোরণের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে দেখা গেছে।
রেভল্যুশনারি গার্ডের হুমকি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান শিগগিরই শুরু হবে। বাহিনীটি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার অধীন পরিচালিত হয়। তাদের শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর হামলায় নিহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে আশঙ্কা করা হয়েছে, খামেনির মৃত্যুর পর কট্টরপন্থি সামরিক নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

রেজা পাহলভির বার্তা ও ক্ষমতার শূন্যতা
ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন, ইরানে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি নতুন সংবিধান ও গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন।
তবে চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে থাকা পাহলভির জনপ্রিয়তা ইরানের ভেতরে কতটা, তা স্পষ্ট নয়। বিরোধী শিবির দীর্ঘদিন ধরেই বিভক্ত।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
খামেনির মৃত্যুতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, ঘরোয়া বিক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অস্থির।

ইসরায়েল ইতোমধ্যে আরও হামলার ঘোষণা দিয়েছে। অপরদিকে তেহরান পাল্টা বড় অভিযানের হুমকি দিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের পরিসর বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















