১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
৫০-এর পর ত্বকে ব্লাশ ব্যবহারে ক্রিম নাকি পাউডার—কোনটি বেশি মানানসই? শরতের চলচ্চিত্র উৎসবে ভোগ সম্পাদকদের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমা মাস্কের স্পেসএক্সে ট্রাম্পের বিনিয়োগ, উঠল স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তিন বছরে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ার চীনা যন্ত্রাংশের ওপর মার্কিন রোবট শিল্পের নির্ভরতা ফাঁস, নতুন নিষেধাজ্ঞায় বাড়ছে উদ্বেগ প্রেমের টানে কানাডা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে, স্বপ্নের বাড়ি হারিয়েও আক্ষেপ নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারেও মার্কিন শেয়ারবাজারে আয় বৃদ্ধির চমক, দুই প্রতিষ্ঠানের বড় অবদান মেইল ভোটে ট্রাম্পের বিধিনিষেধে সুপ্রিম কোর্টের ছাড়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় ফ্লোরিডায় স্বাস্থ্যবিমার খরচে বিপাকে লাখো মানুষ, এক বছরে বীমা ছাড়লেন ৪ লাখ ৪০ হাজার এপস্টেইনকে সহায়তার মামলায় গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সাজা বাতিলের আবেদন খারিজ

তাইওয়ানের ব্যয়বহুল মার্কিন অস্ত্র কেনা: সঠিক সিদ্ধান্ত নাকি ভুল কৌশল?

তাইওয়ান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তিনটি বড় অস্ত্র প্যাকেজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এসব চুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, এই অস্ত্রগুলো আদৌ বেইজিংকে ঠেকাতে কার্যকর হবে কি না।

রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও প্রতিরক্ষা বাজেট

গত মাসে আইনসভায় ১.২৫ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার বা প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব বিরোধী দলগুলো বারবার প্রক্রিয়া কমিটিতে আটকে দেয়। এর পর থেকেই অস্ত্র কেনা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এত বড় ব্যয় সঠিকভাবে পরিকল্পিত কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

কোন কোন অস্ত্র নিয়ে বিতর্ক

সর্বশেষ সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদিত তিনটি অস্ত্র ব্যবস্থা। এগুলো হলো প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও এর আধুনিকায়ন সংস্করণ, ন্যাশনাল অ্যাডভান্সড সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং এম১০৯এ৭ প্যালাডিন স্বচালিত হাউইটজার।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কিছু সামরিক বিশ্লেষকের মতে, বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের প্রেক্ষাপটে এসব কেনাকাটা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। তবে সমালোচকদের দাবি, আসল ঝুঁকি হলো ভুল হুমকির জন্য ভুল ধরনের অস্ত্র কেনা এবং অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করা।

অসম যুদ্ধ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন

সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞ লু দে-ইউন বলেন, এসব অস্ত্র শুধু ব্যয়বহুলই নয়, তাইওয়ান যে অসম যুদ্ধ কৌশল অনুসরণের কথা বলছে, তার সঙ্গে সেগুলো পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে নতুন পাল্লা-বর্ধিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

পিএলএর সামরিক মহড়া ও উত্তেজনা

এদিকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সম্প্রতি তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র কেনা নিয়ে জনমতও বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

পিএসি-৩ এমএসই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, পিএসি-৩ মিসাইল সেগমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট বা এমএসই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম চালান জানুয়ারিতে তাইওয়ানে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় চালান এ বছরের শেষ দিকে আসার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার ব্যয়ে তাইওয়ান ১০২টি প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো—উচ্চমূল্যের এসব অস্ত্র কি সত্যিই সম্ভাব্য সংঘাতের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত, নাকি প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০-এর পর ত্বকে ব্লাশ ব্যবহারে ক্রিম নাকি পাউডার—কোনটি বেশি মানানসই?

তাইওয়ানের ব্যয়বহুল মার্কিন অস্ত্র কেনা: সঠিক সিদ্ধান্ত নাকি ভুল কৌশল?

০৪:৩০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

তাইওয়ান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তিনটি বড় অস্ত্র প্যাকেজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এসব চুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, এই অস্ত্রগুলো আদৌ বেইজিংকে ঠেকাতে কার্যকর হবে কি না।

রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও প্রতিরক্ষা বাজেট

গত মাসে আইনসভায় ১.২৫ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার বা প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব বিরোধী দলগুলো বারবার প্রক্রিয়া কমিটিতে আটকে দেয়। এর পর থেকেই অস্ত্র কেনা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এত বড় ব্যয় সঠিকভাবে পরিকল্পিত কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

কোন কোন অস্ত্র নিয়ে বিতর্ক

সর্বশেষ সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদিত তিনটি অস্ত্র ব্যবস্থা। এগুলো হলো প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও এর আধুনিকায়ন সংস্করণ, ন্যাশনাল অ্যাডভান্সড সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং এম১০৯এ৭ প্যালাডিন স্বচালিত হাউইটজার।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কিছু সামরিক বিশ্লেষকের মতে, বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের প্রেক্ষাপটে এসব কেনাকাটা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। তবে সমালোচকদের দাবি, আসল ঝুঁকি হলো ভুল হুমকির জন্য ভুল ধরনের অস্ত্র কেনা এবং অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করা।

অসম যুদ্ধ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন

সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞ লু দে-ইউন বলেন, এসব অস্ত্র শুধু ব্যয়বহুলই নয়, তাইওয়ান যে অসম যুদ্ধ কৌশল অনুসরণের কথা বলছে, তার সঙ্গে সেগুলো পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে নতুন পাল্লা-বর্ধিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

পিএলএর সামরিক মহড়া ও উত্তেজনা

এদিকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সম্প্রতি তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র কেনা নিয়ে জনমতও বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

পিএসি-৩ এমএসই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, পিএসি-৩ মিসাইল সেগমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট বা এমএসই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম চালান জানুয়ারিতে তাইওয়ানে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় চালান এ বছরের শেষ দিকে আসার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার ব্যয়ে তাইওয়ান ১০২টি প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো—উচ্চমূল্যের এসব অস্ত্র কি সত্যিই সম্ভাব্য সংঘাতের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত, নাকি প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে।