ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৪০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুই শতাধিক বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের তিনটি হোটেলে রাখা হয়েছে। এই হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
তেল আবিবে আঘাত, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধরা পড়লেও কয়েকটি সরাসরি আঘাত হানে আবাসিক এলাকায়। তেল আবিব অঞ্চলে এক নারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়ে পরে মারা যান বলে উদ্ধার সংস্থা নিশ্চিত করেছে। বিস্ফোরণের শব্দে রাতভর আতঙ্কে কাটে শহরবাসীর সময়।
খামেনির মৃত্যুর পর প্রতিশোধের অঙ্গীকার
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তেহরানে তার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন বলে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যু দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় সামনের সারিতে থেকেই তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডকে ‘মহা অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে ইরানের মন্ত্রিসভা কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র সামরিক অভিযান পরিচালনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ টেলিভিশন ভাষণে বলেন, লাল রেখা অতিক্রম করা হয়েছে, এর মূল্য দিতে হবে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, ইরান যদি আরও বড় আঘাত হানে, তবে তার জবাব হবে নজিরবিহীন। তিনি খামেনির মৃত্যুকে ইরানি জনগণের জন্য ‘দেশ পুনরুদ্ধারের সুযোগ’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্য উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরান এরপর ইসরায়েল ছাড়াও বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বিঘ্ন ঘটে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে একজন নিহত হন এবং শহরের প্রধান বন্দরে আগুন লাগে। একটি পরিচিত বিলাসবহুল হোটেলের সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তেহরানে শোক ও উল্লাস, ক্ষমতার শূন্যতা নিয়ে শঙ্কা
খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তেহরানের কিছু এলাকায় উল্লাসের দৃশ্য দেখা যায়। আবার মাশহাদে ইমাম রেজা মাজারে শোকের কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
দেশ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী শাসন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে। একই হামলায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান ও খামেনির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা উপদেষ্টাও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এতে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে আঞ্চলিক সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব এখন আর সীমিত পরিসরে নেই, বরং গোটা অঞ্চলকেই অস্থির করে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















