০৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রক্তাক্ত সিঁড়ি ধ্বংস স্তুপে: এ কোন মার্চ ইরান ভেনেজুয়েলা নয় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলার পর আকাশপথে অচলাবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট স্থগিত করে বড় এয়ারলাইনস মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জেদ্দায় আটকা মুশফিকুর, হাজারো যাত্রীর সঙ্গে অনিশ্চয়তায় ফেরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে উপসাগরে যুদ্ধের আগুন, আমিরাত–সৌদিতে কাঁপন; যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল অভিযানে আরব সমর্থন আরও শক্ত দেশে সাজানো নির্বাচন হয়েছে, ইফতারে অভিযোগ মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলা: পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি শাসন পরিবর্তন—আসলে লক্ষ্য কী? কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আকাশসীমা বন্ধ; ইরানকে কড়া বার্তা সরকারের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা মূল শক্তি ও কী তাদের ভূমিকা

ইরানে হামলার পর জ্বালানিকে কূটনৈতিক অস্ত্র বানানোর পথে ট্রাম্প

টোকিও থেকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং জ্বালানিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কৌশলেরই ধারাবাহিকতা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তি প্রয়োগভিত্তিক নীতি এবার বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ইরানকে চাপে রাখতে সামরিক পদক্ষেপ

গত শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এমন এক সময় এলো, যখন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, সামরিক চাপের মধ্যেও ইরান কেন নতি স্বীকার করছে না—এ নিয়ে ট্রাম্প বিস্মিত।

কূটনৈতিক আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফল না দেওয়ায় ওয়াশিংটন সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু এই ‘সীমিত’ হামলারও বড় প্রভাব পড়তে পারে। ইরানি সরকার নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে বিষয়টি দেখছে। যদি পাল্টা হামলায় মার্কিন হতাহতের ঘটনা ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

পারস্য উপসাগরজুড়ে অস্থিরতার শঙ্কা

বিশ্ব অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন সংঘাতের বিস্তার নিয়ে। সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো যদি অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়ে, অথবা হরমুজ প্রণালি—যেখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়—বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যেতে পারে।

ভেনেজুয়েলা থেকে ইরান: একই কৌশলের ধারাবাহিকতা

চলতি বছরে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর এবার ইরানের ওপর চাপ—এই ধারাবাহিকতায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। ১৯৬০ সালে ওপেক গঠনের সময় সৌদি আরব, ভেনেজুয়েলা, কুয়েত, ইরাক ও ইরান ছিল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার কারণে ওপেক নিজেকে বাজার সমন্বয়কারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

কিন্তু ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতন এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার পরিস্থিতি বদলে দেয়। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এখন ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে মূলত সৌদি আরব ও কুয়েত।

ভেনেজুয়েলার তেলকে কূটনৈতিক হাতিয়ার

ভেনেজুয়েলায় অভিযানের এক সপ্তাহ পর হোয়াইট হাউস বড় তেল কোম্পানিগুলোকে ডেকে পাঠায়। ট্রাম্প প্রস্তাব দেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে অংশ নেবে। কিন্তু বড় কোম্পানিগুলো দ্বিধা প্রকাশ করে।

এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস জানান, বর্তমান আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামোয় দেশটি বিনিয়োগের উপযোগী নয়। যদিও ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, তার অধিকাংশই অতিভারী তেল, যা প্রক্রিয়াজাত করতে বিশেষ প্রযুক্তি ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

চাভেজ ও মাদুরো আমলে তেল শিল্পের বড় অবনতি হয়েছে। পুনরুদ্ধারে সময় ও বিপুল অর্থ দরকার। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকায় বড় কোম্পানিগুলো আগ্রহ হারাচ্ছে।

তবে ভেনেজুয়েলাকে যখন পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়, তখন চিত্র পাল্টায়। যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দেশটি কিউবায় তেল রপ্তানি বন্ধ করে। মেক্সিকোও একই পথে হাঁটে। ফলে তেলকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন কিউবার ওপর চাপ বাড়াতে সক্ষম হয়।

চীন ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলেও রপ্তানি জটিল হয়ে উঠেছে। এমনকি রাশিয়ার তেলের বিকল্প হিসেবে ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার তেল প্রস্তাব দেওয়ার কথাও সামনে এসেছে, যা বহুমুখী কূটনৈতিক চাপের অংশ।

জ্বালানি আধিপত্যের নতুন দ্বন্দ্ব

বিশ শতকে তেল বারবার সংঘাতের কারণ হয়েছে। অনেকে ভেবেছিলেন, কার্বনমুক্ত জ্বালানিতে রূপান্তর এ ধরনের বিরোধ কমাবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু টারবাইন, সৌর প্যানেল এবং বিরল খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের প্রাধান্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চীন ইতোমধ্যে বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জাপানের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে। জাপানের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ কেন কোয়ামা বলেছেন, তেল ও গ্যাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং সবুজ জ্বালানিতে চীনের নিয়ন্ত্রণ—এই দুই আধিপত্য এখন মুখোমুখি সংঘাতে জড়াচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশগুলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের শিল্প ও সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এতে মুক্ত বাণিজ্যের জায়গা নিচ্ছে নতুন ধরনের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক অর্থনীতি।

জাপানের জন্য শিক্ষা ও করণীয়

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতায় অন্য দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠছে। জাপান তার প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অতিনির্ভরতার ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সহযোগিতা ইতিবাচক।

তবে অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে জাপানকে সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্য করতে হবে। প্রথম তেল সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিকল্প জ্বালানি উন্নয়ন, দক্ষ ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার ও মজুত ব্যবস্থাপনা—এসবের সমন্বিত কৌশল গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, জ্বালানি এখন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে

ইরানে হামলার পর জ্বালানিকে কূটনৈতিক অস্ত্র বানানোর পথে ট্রাম্প

০৪:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

টোকিও থেকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং জ্বালানিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কৌশলেরই ধারাবাহিকতা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তি প্রয়োগভিত্তিক নীতি এবার বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ইরানকে চাপে রাখতে সামরিক পদক্ষেপ

গত শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এমন এক সময় এলো, যখন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, সামরিক চাপের মধ্যেও ইরান কেন নতি স্বীকার করছে না—এ নিয়ে ট্রাম্প বিস্মিত।

কূটনৈতিক আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফল না দেওয়ায় ওয়াশিংটন সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু এই ‘সীমিত’ হামলারও বড় প্রভাব পড়তে পারে। ইরানি সরকার নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে বিষয়টি দেখছে। যদি পাল্টা হামলায় মার্কিন হতাহতের ঘটনা ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

পারস্য উপসাগরজুড়ে অস্থিরতার শঙ্কা

বিশ্ব অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন সংঘাতের বিস্তার নিয়ে। সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো যদি অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়ে, অথবা হরমুজ প্রণালি—যেখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়—বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যেতে পারে।

ভেনেজুয়েলা থেকে ইরান: একই কৌশলের ধারাবাহিকতা

চলতি বছরে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর এবার ইরানের ওপর চাপ—এই ধারাবাহিকতায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। ১৯৬০ সালে ওপেক গঠনের সময় সৌদি আরব, ভেনেজুয়েলা, কুয়েত, ইরাক ও ইরান ছিল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার কারণে ওপেক নিজেকে বাজার সমন্বয়কারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

কিন্তু ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতন এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার পরিস্থিতি বদলে দেয়। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এখন ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে মূলত সৌদি আরব ও কুয়েত।

ভেনেজুয়েলার তেলকে কূটনৈতিক হাতিয়ার

ভেনেজুয়েলায় অভিযানের এক সপ্তাহ পর হোয়াইট হাউস বড় তেল কোম্পানিগুলোকে ডেকে পাঠায়। ট্রাম্প প্রস্তাব দেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে অংশ নেবে। কিন্তু বড় কোম্পানিগুলো দ্বিধা প্রকাশ করে।

এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস জানান, বর্তমান আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামোয় দেশটি বিনিয়োগের উপযোগী নয়। যদিও ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, তার অধিকাংশই অতিভারী তেল, যা প্রক্রিয়াজাত করতে বিশেষ প্রযুক্তি ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

চাভেজ ও মাদুরো আমলে তেল শিল্পের বড় অবনতি হয়েছে। পুনরুদ্ধারে সময় ও বিপুল অর্থ দরকার। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকায় বড় কোম্পানিগুলো আগ্রহ হারাচ্ছে।

তবে ভেনেজুয়েলাকে যখন পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়, তখন চিত্র পাল্টায়। যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দেশটি কিউবায় তেল রপ্তানি বন্ধ করে। মেক্সিকোও একই পথে হাঁটে। ফলে তেলকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন কিউবার ওপর চাপ বাড়াতে সক্ষম হয়।

চীন ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলেও রপ্তানি জটিল হয়ে উঠেছে। এমনকি রাশিয়ার তেলের বিকল্প হিসেবে ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার তেল প্রস্তাব দেওয়ার কথাও সামনে এসেছে, যা বহুমুখী কূটনৈতিক চাপের অংশ।

জ্বালানি আধিপত্যের নতুন দ্বন্দ্ব

বিশ শতকে তেল বারবার সংঘাতের কারণ হয়েছে। অনেকে ভেবেছিলেন, কার্বনমুক্ত জ্বালানিতে রূপান্তর এ ধরনের বিরোধ কমাবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু টারবাইন, সৌর প্যানেল এবং বিরল খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের প্রাধান্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চীন ইতোমধ্যে বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জাপানের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে। জাপানের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ কেন কোয়ামা বলেছেন, তেল ও গ্যাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং সবুজ জ্বালানিতে চীনের নিয়ন্ত্রণ—এই দুই আধিপত্য এখন মুখোমুখি সংঘাতে জড়াচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশগুলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের শিল্প ও সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এতে মুক্ত বাণিজ্যের জায়গা নিচ্ছে নতুন ধরনের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক অর্থনীতি।

জাপানের জন্য শিক্ষা ও করণীয়

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতায় অন্য দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠছে। জাপান তার প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অতিনির্ভরতার ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সহযোগিতা ইতিবাচক।

তবে অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে জাপানকে সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্য করতে হবে। প্রথম তেল সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিকল্প জ্বালানি উন্নয়ন, দক্ষ ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার ও মজুত ব্যবস্থাপনা—এসবের সমন্বিত কৌশল গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, জ্বালানি এখন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।