তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন দফা আলোচনার প্রাক্কালে শনিবার ইরানের বিভিন্ন শহরে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি সক্রিয় বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই হামলায় অন্তত ৮৫ জন ছাত্রী নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হরমোজগান প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলের দৃশ্যকে আধুনিক ইরানের ইতিহাসে বিরল ও অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রক্তাক্ত দৃশ্য
হামলাটি ঘটে মিনাব শহরের শাজারে তাইয়্যেবা নামের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যখন স্কুলটি শিক্ষার্থীতে পূর্ণ ছিল। স্থানীয় সাংবাদিকদের ধারণকৃত ভিডিওচিত্রে ধ্বংসস্তূপের মাঝে শিশুদের ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষ দেখা যায়। এসব দৃশ্য দেশজুড়ে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সরকারের তীব্র নিন্দা ও শোকবার্তা
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে “হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিরপরাধ শিক্ষার্থীতে পূর্ণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা চালানো এক নির্মম ও বর্বরোচিত কাজ, যা আক্রমণকারীদের অপরাধের ইতিহাসে স্থায়ী কলঙ্ক হয়ে থাকবে। তিনি আহতদের দ্রুত ও অগ্রাধিকারভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই হামলা “জবাবহীন থাকবে না”। তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুলের ছবি প্রকাশ করে বলেন, দিবালোকে শিক্ষার্থীপূর্ণ একটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এই হামলাকে স্পষ্ট আগ্রাসন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর মতে, এটি যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সনদের অধীনে দায়িত্ব পালনের দাবি জানান।
আইনি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদা তাদের লাল রেখা, এবং কোনো আগ্রাসনই মূল্যহীন থাকবে না। তিনি জানান, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও রাজনৈতিক সব উপায় ব্যবহার করে এই অপরাধের বিচার চাইবে। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নীরব না থাকার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
সক্রিয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহের অধীনে নিষিদ্ধ এবং এটি সশস্ত্র সংঘাতে পার্থক্য ও সামঞ্জস্য নীতির মৌলিক নিয়ম অমান্য করে। ফলে এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গাজায় আগের ধ্বংসযজ্ঞের প্রসঙ্গ
গত দুই বছরে গাজায় বহু স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও উপাসনালয় ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েলের এসব অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও লজিস্টিক সহায়তার অভিযোগও উঠেছে। মিনাবের এই হামলাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















