মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা আবারও কৌশলগত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দুবাই ও বৈশ্বিক বাজার সোমবার খুললে সোনা ও রুপার দাম ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপদ সম্পদের চাহিদা
বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশে সোনা আর কেবল জল্পনামূলক সম্পদ নয়, বরং ঝুঁকি মোকাবিলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা মূলধন সুরক্ষার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সোনার দামে ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত লাফ দেখা যেতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগেই ঝুঁকি এড়াতে সোনায় অবস্থান নিচ্ছেন, যা দামের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি করতে পারে।

দুবাইয়ে সম্ভাব্য নতুন রেকর্ড
সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত সপ্তাহে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম গ্রামপ্রতি ৬৩৬ দিরহামে লেনদেন শেষ হয়। ২২ ক্যারেট ছিল ৫৮৯ দিরহাম, ২১ ক্যারেট ৫৬৪ দশমিক ৭৫ দিরহাম, ১৮ ক্যারেট ৪৮৪ দিরহাম এবং ১৪ ক্যারেট ৩৭৭ দশমিক ৫ দিরহাম।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দাম ২ শতাংশের বেশি বাড়ে, তাহলে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রথমবারের মতো গ্রামপ্রতি ৬৫০ দিরহাম স্পর্শ করতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সোনার দর সপ্তাহ শেষে আউন্সপ্রতি ৫,২৭৮ দশমিক ১ ডলারে বন্ধ হয়, যা আগের তুলনায় ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি।
সুদের হার ও তেলের প্রভাব
আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলতে পারে। জ্বালানির মূল্য দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ থাকলে তা মুদ্রানীতিতে চাপ তৈরি করবে এবং এর ফলে সোনার দাম কাঠামোগতভাবে আরও সমর্থন পেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে সোনা রেকর্ড উচ্চতার দিকেও অগ্রসর হতে পারে। তবে এই ঊর্ধ্বগতি কেবল তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নয়, বরং বৈশ্বিক মুদ্রানীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
রুপার দামে দ্রুত উত্থান, তবে ঝুঁকিও বেশি
রুপাও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে চাহিদা পাচ্ছে। তবে এটি একদিকে বিনিয়োগের মাধ্যম, অন্যদিকে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ধাতু হওয়ায় এর দামে ওঠানামা বেশি হয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, রুপার দাম সোনার চেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে এবং ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমতে শুরু করলে রুপার দামে সংশোধনের ঝুঁকিও বেশি থাকবে।
গত সপ্তাহে রুপার দাম আউন্সপ্রতি ৯৩ দশমিক ৭২ ডলারে বন্ধ হয়, যা ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
![]()
বাজারে সতর্ক থাকার পরামর্শ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোমবার বাজার খোলার পর সোনা প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবধান নিয়ে ওপরে খুলতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীদের মনে রাখতে হবে, বাজার সব সময় যুক্তির নিয়ম মেনে চলে না। অনেক সময় দাম প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ওঠানামা করতে পারে।
বর্তমানে বাজার শিরোনামভিত্তিক ঝুঁকির অধীনে রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমসহ অনেক অংশগ্রহণকারী দ্রুত সংবাদ বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়, ফলে দাম অল্প সময়ে বড় পরিবর্তন দেখাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অস্থির পরিবেশ সবার জন্য উপযোগী নয়। প্রয়োজনে সংবাদসংবেদনশীল বাজার থেকে দূরে থাকাও কখনও কখনও সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো অবস্থান না নেওয়াই সেরা অবস্থান হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















