তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল—ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন।
ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রস্তুতি নেয় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা—এমন তথ্য জানিয়েছে ফিনান্সিয়াল টাইমস। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নজরদারি ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু ছিল এবং তা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ওই হামলায় নিহত হন খামেনি এবং দেশটির আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

তেহরানের ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে হ্যাক করা ছিল
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরাগুলো কয়েক বছর ধরে হ্যাক করা অবস্থায় ছিল। এসব ক্যামেরার ভিডিও ফিড এনক্রিপ্ট করে ইসরায়েলে পাঠানো হতো। এর মাধ্যমে গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন।
খামেনির বাসভবনের আশপাশের একটি সড়কে স্থাপিত একটি ক্যামেরা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফুটেজের মাধ্যমে নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়ি চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হতো। এসব তথ্য ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের এবং তাদের নিরাপত্তা টিমের চলাফেরার একটি নির্দিষ্ট ধরণ বা ‘প্যাটার্ন অব লাইফ’ তৈরি করা হয়।
মোবাইল নেটওয়ার্কেও বিঘ্ন ঘটানো হয়েছিল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় সম্ভাব্য সতর্কবার্তা বন্ধ রাখতে খামেনির কম্পাউন্ডের আশপাশের মোবাইল ফোন টাওয়ারের কিছু অংশেও ইসরায়েল বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
মাসের পর মাস ধরে পরিকল্পনা
এই হামলার পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে তৈরি করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার সময়সূচি নির্ধারণে পরিবর্তন আনা হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয় যে শনিবার সকালে খামেনি তার তেহরানের কম্পাউন্ডে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানবসূত্রও ছিল, যে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
হামলার সময় খামেনি নাশতা করছিলেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ফক্স নিউজকে বলেন, হামলার সময় খামেনি তার ঘনিষ্ঠ সহকারীদের সঙ্গে নাশতা করছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা মনে করেছিলেন দিনের আলোয় অবস্থান করায় তারা নিরাপদ।

অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’
ট্রাম্প জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া। তবে তেহরান এই হামলাকে সম্পূর্ণ উসকানিহীন বলে দাবি করেছে।
ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের অতীত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে বিদেশের মাটিতে শত শত মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এসব হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী, রাসায়নিক প্রকৌশলী এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরীহ সাধারণ মানুষও।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















