০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস

ট্রাম্পের যুদ্ধের জুয়া: ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ ইরান সংঘাতে সবকিছু বাজি রাখলেন

নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসে বলেছিলেন, তার সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হবে শান্তি প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এখন সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে নিজের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছেন। এই সিদ্ধান্ত শুধু মার্কিন সেনাদের জীবনকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় রাজনৈতিক জুয়া

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অনুমোদনের মাধ্যমে ট্রাম্প এমন এক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেলে দিয়েছেন, যা আকারে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দুই হাজার তিন সালে ইরাক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরও কঠোর আঘাত সামনে আসতে পারে।

15 Months Ago, Donald Trump Promised “I'm Not Going to Start Wars, I'm  Going to Stop Wars" | Vanity Fair

‘শান্তির প্রতিশ্রুতি’ থেকে যুদ্ধের পথে

ক্ষমতায় আসার সময় ট্রাম্প মার্কিন ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি নতুন যুদ্ধ শুরু করবেন না, বরং বিদ্যমান সংঘাতগুলো শেষ করবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতায় আসার এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই তিনি সাতটি দেশে সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদন করেছেন।

তবুও ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানকে সফল বলে তুলে ধরছে। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনা এবং ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা এই অভিযানের বড় সাফল্য। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।

জনমত ও রাজনৈতিক চাপ

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এই যুদ্ধ নিয়ে সমর্থন খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন ভোটারই ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্ত সমর্থন করছেন না। এক জরিপে দেখা যায় প্রায় ঊনষাট শতাংশ মানুষ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন, আর মাত্র সাতাশ শতাংশ মানুষ সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছেন।

Poll: Trump voters don't want US involved in Israel's war on Iran |  Responsible Statecraft

ডেমোক্র্যাট নেতারা এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান না করে বিদেশি সংঘাতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

নিজের শিবিরেও বাড়ছে প্রশ্ন

ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের ভেতরেও এখন মতভেদ দেখা যাচ্ছে। তার কিছু ঘনিষ্ঠ সমর্থক প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, ‘আমেরিকা আগে’ নীতির সঙ্গে বিদেশে নতুন যুদ্ধের এই পদক্ষেপ সাংঘর্ষিক।

তবে ট্রাম্পের অনেক সমর্থক এখনো অপেক্ষা করছেন যুদ্ধের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে। তাদের মতে, শেষ পর্যন্ত অভিযানের ফলাফলই নির্ধারণ করবে এটি রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হবে নাকি বড় ক্ষতির কারণ হবে।

US and Israel launch a major attack on Iran and Trump urges Iranians to  'take over your government' - Colorado Politics

সামনে আরও বড় অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় বা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে, তবে তা মার্কিন রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য এটি কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একসময় নিজেকে শান্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা ট্রাম্প এখন এমন এক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গেছেন, যার ফলাফল শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, মার্কিন রাজনীতির ভবিষ্যতকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা

ট্রাম্পের যুদ্ধের জুয়া: ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ ইরান সংঘাতে সবকিছু বাজি রাখলেন

০৩:১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসে বলেছিলেন, তার সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হবে শান্তি প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এখন সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে নিজের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছেন। এই সিদ্ধান্ত শুধু মার্কিন সেনাদের জীবনকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় রাজনৈতিক জুয়া

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অনুমোদনের মাধ্যমে ট্রাম্প এমন এক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেলে দিয়েছেন, যা আকারে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দুই হাজার তিন সালে ইরাক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরও কঠোর আঘাত সামনে আসতে পারে।

15 Months Ago, Donald Trump Promised “I'm Not Going to Start Wars, I'm  Going to Stop Wars" | Vanity Fair

‘শান্তির প্রতিশ্রুতি’ থেকে যুদ্ধের পথে

ক্ষমতায় আসার সময় ট্রাম্প মার্কিন ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি নতুন যুদ্ধ শুরু করবেন না, বরং বিদ্যমান সংঘাতগুলো শেষ করবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতায় আসার এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই তিনি সাতটি দেশে সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদন করেছেন।

তবুও ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানকে সফল বলে তুলে ধরছে। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনা এবং ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা এই অভিযানের বড় সাফল্য। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।

জনমত ও রাজনৈতিক চাপ

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এই যুদ্ধ নিয়ে সমর্থন খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন ভোটারই ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্ত সমর্থন করছেন না। এক জরিপে দেখা যায় প্রায় ঊনষাট শতাংশ মানুষ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন, আর মাত্র সাতাশ শতাংশ মানুষ সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছেন।

Poll: Trump voters don't want US involved in Israel's war on Iran |  Responsible Statecraft

ডেমোক্র্যাট নেতারা এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান না করে বিদেশি সংঘাতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

নিজের শিবিরেও বাড়ছে প্রশ্ন

ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের ভেতরেও এখন মতভেদ দেখা যাচ্ছে। তার কিছু ঘনিষ্ঠ সমর্থক প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, ‘আমেরিকা আগে’ নীতির সঙ্গে বিদেশে নতুন যুদ্ধের এই পদক্ষেপ সাংঘর্ষিক।

তবে ট্রাম্পের অনেক সমর্থক এখনো অপেক্ষা করছেন যুদ্ধের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে। তাদের মতে, শেষ পর্যন্ত অভিযানের ফলাফলই নির্ধারণ করবে এটি রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হবে নাকি বড় ক্ষতির কারণ হবে।

US and Israel launch a major attack on Iran and Trump urges Iranians to  'take over your government' - Colorado Politics

সামনে আরও বড় অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় বা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে, তবে তা মার্কিন রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য এটি কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একসময় নিজেকে শান্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা ট্রাম্প এখন এমন এক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গেছেন, যার ফলাফল শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, মার্কিন রাজনীতির ভবিষ্যতকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।