বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ। দলটির শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ঘটনায় সরাসরি ভূমিকা ছিল খলিলুর রহমান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। এই অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ
বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর উপপ্রধান সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা সময়ে খলিলুর রহমান নির্বাচনকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার দাবি, সে সময় বিদেশে একটি বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় আনার কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
তাহেরের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রশাসনের ভেতর থেকে নির্বাচন প্রকৌশল করা হয়েছিল। তিনি বলেন, পরবর্তীতে ওই ভূমিকার পুরস্কার হিসেবে তাকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। তার মতে, বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।
৫৩ আসন নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে তাহের জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৫৩টি আসনের ভোট নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তার দাবি, ওইসব আসনের ফলাফলে নানা ধরনের অনিয়ম ছিল এবং সেগুলোর কারণেই একটি দল সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
তিনি বলেন, এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা হলে নির্বাচন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তার উত্তর পাওয়া যাবে।
রিজওয়ানার বক্তব্য নিয়ে নতুন বিতর্ক
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক টেলিভিশন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাহের বলেন, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ ব্যক্তিরা মূলধারার ক্ষমতায় উঠতে পারেননি। তাহেরের মতে, এই বক্তব্যে নির্বাচন প্রকৌশলের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করার ইঙ্গিত রয়েছে।
তার দাবি, এসব বক্তব্যে পরিষ্কার বোঝা যায় যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এবং সে কারণেই বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি।
জবাবদিহি দাবি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে তাহের বলেন, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। তার মতে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নির্বাচনী অনিয়মের পেছনে আর কারা জড়িত ছিলেন তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
একই সঙ্গে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিশু হত্যার মতো ঘটনা, রাজনৈতিক হামলা এবং অভিযোগ নেওয়ায় পুলিশের বিলম্বের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কারণে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তাহেরের মতে, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















