লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে তার পদ থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় তিনি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেননি এবং তার কর্মকাণ্ডে প্রবাসী সমাজ বিভক্ত হয়েছে।
শনিবার লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্য সফরে রয়েছেন।

সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ
হুমায়ুন কবির বলেন, লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় আবিদা ইসলাম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি।
উপদেষ্টার অভিযোগ, তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এছাড়া তিনি বলেন, লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আওয়ামী লীগপন্থী করে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

লন্ডনে কূটনৈতিক বৈঠক ও সফর
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও বর্তমানে লন্ডন সফরে রয়েছেন। তিনি মার্চে ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেবেন। এই সফরকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সফরের মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের প্রচেষ্টাও চালানো হবে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আবিদা ইসলামের কূটনৈতিক জীবন
২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবিদা ইসলাম। তিনি একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কূটনৈতিক জীবনে তিনি লন্ডন, কলম্বো ও ব্রাসেলসে বাংলাদেশ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কলকাতায় বাংলাদেশের প্রথম নারী উপহাইকমিশনার ও মিশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন আবিদা ইসলাম। সেই সময় তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভাগ এবং আমেরিকা অঞ্চলের কার্যক্রম তদারকি করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাকাকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি কাজ করেছেন বলে কূটনৈতিক মহলে উল্লেখ করা হয়।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















