মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম দাবি করেছেন, ইরানের সরকার পতন ঘটাতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তেল বাজারে বিশাল প্রভাব অর্জন করবে এবং বিপুল অর্থনৈতিক লাভ করবে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি “ভালো বিনিয়োগ” হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
লিন্ডসে গ্রাহাম রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বর্তমান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তেলের দাম বৃদ্ধি
গ্রাহামের মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম বৃদ্ধিকে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে “খুব ছোট মূল্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই অর্থনৈতিক চাপ মেনে নেওয়া যেতে পারে।
গ্রাহামের দাবি: যুদ্ধ ‘সেরা বিনিয়োগ’
গ্রাহাম বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা “সবচেয়ে ভালোভাবে খরচ করা অর্থ”। তাঁর যুক্তি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে বিরত রাখা।
তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেনি।

‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’ ও তেল নিয়ন্ত্রণের হিসাব
গ্রাহামের মতে, ইরানের বর্তমান সরকার পতনের পর মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হবে। তিনি বলেন, তখন আর কেউ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি দিতে পারবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরান মিলিয়ে বিশ্বের প্রায় ৩১ শতাংশ তেল মজুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই দুই দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্থাপন করতে পারে, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিশাল প্রভাব ফেলবে এবং বিশেষ করে চীনের জন্য বড় ধাক্কা হবে।
ভেনেজুয়েলার তেল খাতেও নজর
ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ওপরও প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেলসি রদ্রিগেজকে স্বীকৃতি দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়।
ইরান কয়েকটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানি বাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর পাল্টা হামলাও চালিয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া
তেহরান এই যুদ্ধকে “অকারণ আগ্রাসন” বলে নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















