রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় কর্মশালায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে অর্থায়ন সংকট, নীতিগত দুর্বলতা এবং বাস্তবায়ন ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেকসই জ্বালানি খাত এগিয়ে নিতে এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কর্মশালার লক্ষ্য ও আয়োজন
“ম্যাক্রো অর্থনৈতিক বাধা ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন সমন্বয়” শীর্ষক এই কর্মশালায় নীতিনির্ধারক, বেসরকারি খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন অংশীদাররা অংশ নেন। এতে পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, বিশেষ করে সুন্দরবন ও হাকালুকি হাওরে কার্যকর ও বিস্তৃতযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রকল্পের কার্যক্রম ও উদ্যোগ
একটি বহুপক্ষীয় প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় বাজারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে সৌর সেচ ব্যবস্থা, সৌরচালিত জীবিকা এবং বায়োগ্যাস প্রযুক্তির মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা জ্বালানি দারিদ্র্য কমানো ও আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতার চিত্র
কর্মশালায় তুলে ধরা হয়, জাতীয় পর্যায়ের লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তবায়নে বড় ধরনের ফাঁক রয়ে গেছে। উচ্চ প্রারম্ভিক ব্যয়, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নীতির কার্যকর প্রয়োগের অভাব এ খাতে অগ্রগতিকে ধীর করে দিচ্ছে।
বেসরকারি খাত ও অর্থায়নের সংকট
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধিরা জানান, গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় কাজ করতে গিয়ে মূলধন সংগ্রহ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের গতি কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার চেয়ে কাঠামোগত ও রাজনৈতিক অর্থনীতির বাধাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন এবং শক্তিশালী স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুললে এই খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















