০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ইউরোপের অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতি ও অনিশ্চয়তা চীনের দখলে মানবসদৃশ রোবটের ভবিষ্যৎ, পিছিয়ে পড়ছে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় নতুন বিতর্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উত্তেজনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্মাদনায় শেয়ারবাজারে নতুন বুদ্‌বুদের আশঙ্কা কঙ্গোতে নতুন ইবোলা আতঙ্ক, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা তালপাতার পাণ্ডুলিপি: একটি জাতির বিস্মৃত জ্ঞানভাণ্ডারের পুনরাবিষ্কার নামের জন্য নয়, দিক পরিবর্তনের জন্য বাজেট দরকার  ইবোলা মোকাবিলায় সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়, নতুন ওষুধে আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা স্পেসএক্সের ১০ শতাংশ সম্ভাবনা থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বিস্ময়, ইতিহাস গড়লেন ইলন মাস্ক দুর্নীতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতাদের ঘরে ঘরে তদন্ত, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

নামের জন্য নয়, দিক পরিবর্তনের জন্য বাজেট দরকার

পাকিস্তানের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হলেই দুই ধরনের বর্ণনা সামনে আসে। এক পক্ষ কিছু ইতিবাচক সূচক তুলে ধরে আশাবাদের ছবি আঁকে, অন্য পক্ষ দুর্বল তথ্য-উপাত্ত সামনে এনে সংকটের গভীরতা বোঝাতে চায়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের প্রবণতা বিবেচনায় নিলে একটি বিষয় অস্বীকার করা কঠিন—দেশটির অর্থনীতি বহু বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারছে না, বরং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।

এই বাস্তবতাকে শুধুমাত্র সাময়িক ওঠানামার ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, দারিদ্র্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয়—প্রায় প্রতিটি বড় সূচকই ইঙ্গিত করছে যে সমস্যাগুলো কাঠামোগত। আর কাঠামোগত সমস্যার সমাধানও কাঠামোগত হতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বাজেট সেই ধরনের রূপান্তরমুখী চিন্তার ইঙ্গিত দিতে পারেনি।

সংকটের গভীরতা বোঝার প্রশ্ন

কোনো অর্থনীতি কেন দুর্বল হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে মতভেদ থাকতে পারে। কেউ বলবেন ঋণের বোঝা বেশি, কেউ বলবেন রপ্তানি কম। আবার অনেকে উচ্চ করহার, ব্যয়বহুল জ্বালানি, দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থা, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অদক্ষ সরকারি কাঠামো বা দুর্নীতিকে দায়ী করবেন। কারণ নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে।

Pakistan set to unveil Rs17.6 trillion federal budget for 2025-26 | SAMAA TV

কিন্তু সরকার যখন বাজেট প্রণয়ন করে, তখন তার কাছে অন্তত একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকার কথা—সমস্যার উৎস কোথায় এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ কী। বাজেট সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন হওয়ার কথা। যদি অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল থাকে, তাহলে বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যতের রূপরেখা।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এবারের বাজেটে সেই বৃহৎ রূপরেখা স্পষ্ট নয়। এখানে কিছু সংশোধন আছে, কিছু স্বস্তি আছে, কিন্তু অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো সাহসী উদ্যোগ খুব কম।

করছাড় আছে, কিন্তু কতটা কার্যকর?

বেতনভোগী শ্রেণির ওপর করের চাপ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে কিছু করছাড় অবশ্যই প্রয়োজন ছিল। বাজেটে সেই দিক থেকে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে। নির্দিষ্ট কিছু অতিরিক্ত কর তুলে দেওয়া হয়েছে এবং করহারেও আংশিক সমন্বয় এসেছে।

তবে প্রশ্ন হলো, উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিবেশে এই ছাড় কতটা বাস্তব স্বস্তি দেবে? যদি মানুষের আয় শুধু মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে বাড়ে, কিন্তু তারা নতুন করস্তরে উঠে যায়, তাহলে প্রকৃত সুবিধা অনেকাংশেই হারিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ কাগজে কর কমলেও বাস্তবে করদাতার চাপ আগের মতোই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যবসার জন্য কিছু ইতিবাচক বার্তা

রপ্তানিমুখী শিল্প লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার আহ্বান | Suprobhat Bangladesh

বাজেটে ব্যবসায়িক খাতের জন্যও কয়েকটি স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত এসেছে। বিশেষত ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু করছাড় এবং রপ্তানিমুখী খাতের ওপর নির্দিষ্ট চাপ কমানোর উদ্যোগ ইতিবাচক হিসেবে দেখা যেতে পারে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের অন্যতম বড় সমস্যা হলো রপ্তানি বৃদ্ধির স্থবিরতা। এই সমস্যা সমাধানে শুধু কর সমন্বয় যথেষ্ট নয়। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিয়োগ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং শিল্পায়নের গতি বাড়ানো ছাড়া বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। বাজেটে এসব বিষয়ে শক্তিশালী নীতিগত বার্তা অনুপস্থিত।

ধনীদের জন্য সুবিধা, সাধারণের জন্য সীমিত প্রভাব

বাজেটের কিছু পদক্ষেপ এমন জনগোষ্ঠীকে বেশি সুবিধা দেবে যারা ইতোমধ্যেই তুলনামূলকভাবে সচ্ছল। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় বা বিদেশে সম্পদধারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু করছাড় সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।

অবশ্য এর পক্ষে যুক্তি থাকতে পারে যে এতে পুঁজি দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠবে—যে অর্থনীতি কর্মসংস্থান সংকট ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছে, সেখানে অগ্রাধিকারের তালিকায় কোন শ্রেণির স্বার্থ আগে আসা উচিত?

নতুন করের বাস্তবতা

বাজেট বক্তৃতায় সাধারণত স্বস্তির ঘোষণা বেশি শোনা যায়, কিন্তু অতিরিক্ত কর বা রাজস্ব সংগ্রহের কঠিন অংশগুলো পরে সামনে আসে। আন্তর্জাতিক আর্থিক বাধ্যবাধকতার কারণে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ থাকায় নতুন কর ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা যে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে প্রভাব ফেলবে, তা অনুমান করা কঠিন নয়।

We are behind the inflation curve – POLITICO

বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যের ওপর অতিরিক্ত করের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছেই পৌঁছায়। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর পরিবর্তে তা আরও জটিল হতে পারে।

সরকারি ব্যয় কমানোর প্রশ্ন

অর্থনৈতিক সংকটের সময় সাধারণত দুটি বিষয় গুরুত্ব পায়—ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ। কিন্তু সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংযমের চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।

উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কিন্তু যখন রাজস্ব ঘাটতি বড় এবং ঋণের চাপ বাড়ছে, তখন কোন প্রকল্প জরুরি আর কোনটি অপেক্ষা করতে পারে—সেই কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হয়। শুধু ব্যয় বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পুরনো ধারণা সবসময় কার্যকর হয় না, বিশেষত যখন অর্থনীতির ভিত্তিগত দুর্বলতা রয়ে যায়।

প্রকৃত চ্যালেঞ্জ: কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি

একটি সফল বাজেটের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত হয় মানুষের জীবনে তার প্রভাব দিয়ে। নতুন চাকরি তৈরি হচ্ছে কি না, বিনিয়োগ বাড়ছে কি না, দারিদ্র্য কমছে কি না এবং অর্থনীতি ভবিষ্যতের জন্য কতটা প্রস্তুত হচ্ছে—এসব প্রশ্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক বাজেটে কিছু স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ আছে, কিছু অসঙ্গতি সংশোধনের চেষ্টা আছে। কিন্তু অর্থনীতিকে নতুন গতিপথে নেওয়ার জন্য যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা দরকার ছিল, তার ঘাটতি স্পষ্ট। এটি এমন একটি বাজেট, যা বিদ্যমান ব্যবস্থাকে কিছুটা মেরামত করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতাগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সাহস দেখায়নি।

যে অর্থনীতি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী, তার জন্য ছোটখাটো সমন্বয় যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু যে অর্থনীতি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সংকটে ভুগছে, তার জন্য প্রয়োজন বড় চিন্তা, স্পষ্ট অগ্রাধিকার এবং সাহসী সংস্কার। সেই মানদণ্ডে এই বাজেট প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সংযত, অনেক কম দূরদর্শী।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতি ও অনিশ্চয়তা

নামের জন্য নয়, দিক পরিবর্তনের জন্য বাজেট দরকার

০২:১৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

পাকিস্তানের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হলেই দুই ধরনের বর্ণনা সামনে আসে। এক পক্ষ কিছু ইতিবাচক সূচক তুলে ধরে আশাবাদের ছবি আঁকে, অন্য পক্ষ দুর্বল তথ্য-উপাত্ত সামনে এনে সংকটের গভীরতা বোঝাতে চায়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের প্রবণতা বিবেচনায় নিলে একটি বিষয় অস্বীকার করা কঠিন—দেশটির অর্থনীতি বহু বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারছে না, বরং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।

এই বাস্তবতাকে শুধুমাত্র সাময়িক ওঠানামার ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, দারিদ্র্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয়—প্রায় প্রতিটি বড় সূচকই ইঙ্গিত করছে যে সমস্যাগুলো কাঠামোগত। আর কাঠামোগত সমস্যার সমাধানও কাঠামোগত হতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বাজেট সেই ধরনের রূপান্তরমুখী চিন্তার ইঙ্গিত দিতে পারেনি।

সংকটের গভীরতা বোঝার প্রশ্ন

কোনো অর্থনীতি কেন দুর্বল হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে মতভেদ থাকতে পারে। কেউ বলবেন ঋণের বোঝা বেশি, কেউ বলবেন রপ্তানি কম। আবার অনেকে উচ্চ করহার, ব্যয়বহুল জ্বালানি, দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থা, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অদক্ষ সরকারি কাঠামো বা দুর্নীতিকে দায়ী করবেন। কারণ নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে।

Pakistan set to unveil Rs17.6 trillion federal budget for 2025-26 | SAMAA TV

কিন্তু সরকার যখন বাজেট প্রণয়ন করে, তখন তার কাছে অন্তত একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকার কথা—সমস্যার উৎস কোথায় এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ কী। বাজেট সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন হওয়ার কথা। যদি অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল থাকে, তাহলে বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যতের রূপরেখা।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এবারের বাজেটে সেই বৃহৎ রূপরেখা স্পষ্ট নয়। এখানে কিছু সংশোধন আছে, কিছু স্বস্তি আছে, কিন্তু অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো সাহসী উদ্যোগ খুব কম।

করছাড় আছে, কিন্তু কতটা কার্যকর?

বেতনভোগী শ্রেণির ওপর করের চাপ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে কিছু করছাড় অবশ্যই প্রয়োজন ছিল। বাজেটে সেই দিক থেকে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে। নির্দিষ্ট কিছু অতিরিক্ত কর তুলে দেওয়া হয়েছে এবং করহারেও আংশিক সমন্বয় এসেছে।

তবে প্রশ্ন হলো, উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিবেশে এই ছাড় কতটা বাস্তব স্বস্তি দেবে? যদি মানুষের আয় শুধু মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে বাড়ে, কিন্তু তারা নতুন করস্তরে উঠে যায়, তাহলে প্রকৃত সুবিধা অনেকাংশেই হারিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ কাগজে কর কমলেও বাস্তবে করদাতার চাপ আগের মতোই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যবসার জন্য কিছু ইতিবাচক বার্তা

রপ্তানিমুখী শিল্প লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার আহ্বান | Suprobhat Bangladesh

বাজেটে ব্যবসায়িক খাতের জন্যও কয়েকটি স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত এসেছে। বিশেষত ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু করছাড় এবং রপ্তানিমুখী খাতের ওপর নির্দিষ্ট চাপ কমানোর উদ্যোগ ইতিবাচক হিসেবে দেখা যেতে পারে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের অন্যতম বড় সমস্যা হলো রপ্তানি বৃদ্ধির স্থবিরতা। এই সমস্যা সমাধানে শুধু কর সমন্বয় যথেষ্ট নয়। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিয়োগ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং শিল্পায়নের গতি বাড়ানো ছাড়া বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। বাজেটে এসব বিষয়ে শক্তিশালী নীতিগত বার্তা অনুপস্থিত।

ধনীদের জন্য সুবিধা, সাধারণের জন্য সীমিত প্রভাব

বাজেটের কিছু পদক্ষেপ এমন জনগোষ্ঠীকে বেশি সুবিধা দেবে যারা ইতোমধ্যেই তুলনামূলকভাবে সচ্ছল। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় বা বিদেশে সম্পদধারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু করছাড় সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।

অবশ্য এর পক্ষে যুক্তি থাকতে পারে যে এতে পুঁজি দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠবে—যে অর্থনীতি কর্মসংস্থান সংকট ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছে, সেখানে অগ্রাধিকারের তালিকায় কোন শ্রেণির স্বার্থ আগে আসা উচিত?

নতুন করের বাস্তবতা

বাজেট বক্তৃতায় সাধারণত স্বস্তির ঘোষণা বেশি শোনা যায়, কিন্তু অতিরিক্ত কর বা রাজস্ব সংগ্রহের কঠিন অংশগুলো পরে সামনে আসে। আন্তর্জাতিক আর্থিক বাধ্যবাধকতার কারণে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ থাকায় নতুন কর ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা যে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে প্রভাব ফেলবে, তা অনুমান করা কঠিন নয়।

We are behind the inflation curve – POLITICO

বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যের ওপর অতিরিক্ত করের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছেই পৌঁছায়। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর পরিবর্তে তা আরও জটিল হতে পারে।

সরকারি ব্যয় কমানোর প্রশ্ন

অর্থনৈতিক সংকটের সময় সাধারণত দুটি বিষয় গুরুত্ব পায়—ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ। কিন্তু সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংযমের চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।

উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কিন্তু যখন রাজস্ব ঘাটতি বড় এবং ঋণের চাপ বাড়ছে, তখন কোন প্রকল্প জরুরি আর কোনটি অপেক্ষা করতে পারে—সেই কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হয়। শুধু ব্যয় বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পুরনো ধারণা সবসময় কার্যকর হয় না, বিশেষত যখন অর্থনীতির ভিত্তিগত দুর্বলতা রয়ে যায়।

প্রকৃত চ্যালেঞ্জ: কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি

একটি সফল বাজেটের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত হয় মানুষের জীবনে তার প্রভাব দিয়ে। নতুন চাকরি তৈরি হচ্ছে কি না, বিনিয়োগ বাড়ছে কি না, দারিদ্র্য কমছে কি না এবং অর্থনীতি ভবিষ্যতের জন্য কতটা প্রস্তুত হচ্ছে—এসব প্রশ্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক বাজেটে কিছু স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ আছে, কিছু অসঙ্গতি সংশোধনের চেষ্টা আছে। কিন্তু অর্থনীতিকে নতুন গতিপথে নেওয়ার জন্য যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা দরকার ছিল, তার ঘাটতি স্পষ্ট। এটি এমন একটি বাজেট, যা বিদ্যমান ব্যবস্থাকে কিছুটা মেরামত করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতাগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সাহস দেখায়নি।

যে অর্থনীতি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী, তার জন্য ছোটখাটো সমন্বয় যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু যে অর্থনীতি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সংকটে ভুগছে, তার জন্য প্রয়োজন বড় চিন্তা, স্পষ্ট অগ্রাধিকার এবং সাহসী সংস্কার। সেই মানদণ্ডে এই বাজেট প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সংযত, অনেক কম দূরদর্শী।